যকৃতে চর্বি জমাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। লিভার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা দেহ থেকে দূষিত পদার্থ দূর করা থেকে শুরু করে প্রোটিন সংশ্লেষ, রক্ত পরিশোধন ও হজমে সহায়তা করাসহ নানা জটিল কাজ সম্পন্ন করে। লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর।
সাধারণত অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি, ভালো কোলেস্টেরলের ঘাটতি, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি বিপাকে সমস্যার কারণে যকৃতে চর্বি জমে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি। এর মধ্যে সঠিক খাদ্যাভ্যাস সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। কিছু খাবার লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
সবুজ শাক এবং সবজি: মেথি, পালং ও পুঁইশাকসহ টাটকা শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে। ফাইবার জাতীয় খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমায়।
তৈলাক্ত মাছ: তৈলাক্ত মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও জরুরি।
আখরোট: আখরোটে রয়েছে গ্লুটাথিয়ন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং আরজিনিন, যা লিভারের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখে। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া ও বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে এবং লিভারের ভেতরের প্রদাহ ও চর্বির আধিক্য কমায়। প্রতিদিন সকালে ৪ থেকে ৫টি ভেজানো বা শুকনো আখরোট খাওয়া উপকারী।
বিট: বিটে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার ও নাইট্রেট, যা পিত্তরস তৈরিতে সাহায্য করে এবং উৎসেচকের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করে লিভার সতেজ রাখে।
লেবু ও ভিটামিন সি যুক্ত ফল: আমলকি, পেয়ারা ও লেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে এবং লিভারকে বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে।


























