কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রথমবারের মতো ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াডের ঢাকা-দক্ষিণ অঞ্চলের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণাঢ্য এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১১৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন কোর্টে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অলিম্পিয়াডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং গণিত অলিম্পিয়াডের ঢাকা-দক্ষিণ অঞ্চলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল্লাহ আল মাহবুব।
গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজক সূত্র জানায়, এবারের প্রতিযোগিতায় ঢাকা মহানগরীর একাংশসহ মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৪০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ১১৮ জন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
আঞ্চলিক পর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি অঞ্চল থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী শীর্ষ ১০ জন জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন। আটটি আঞ্চলিক পর্ব থেকে নির্বাচিত সেরা ৮০ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১০ জন আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
আয়োজন প্রসঙ্গে গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জনি আলম বলেন, “প্রথমবারের মতো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াডের ঢাকা-দক্ষিণ আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হলো। ইতোমধ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফলাফল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এ অঞ্চল থেকে নির্বাচিত ১০ জন প্রতিযোগী জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবেন এবং সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা ১০ জন আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়বেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে বলে আশা প্রকাশ করছি।”
অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “গণিত একটি বৈশ্বিক বিষয়। গণিত বিভাগের এই আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের মেধা প্রকাশের সুযোগ পাবে।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন প্রশংসার দাবিদার। আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, এ উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।”


























