মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৭:১৭ অপরাহ্ন | ৬ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ২১শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

স্থানীয়দের আপত্তির মুখে কেটি পেরির ‘ইয়ুথ ক্যাম্প ও আর্টস সেন্টার’ প্রকল্প

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

পপ সুপারস্টার কেটি পেরির একটি নতুন প্রকল্প ঘিরে ক্যালিফোর্নিয়ার গোলেটা ভ্যালির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ১১০ একর জায়গাজুড়ে একটি স্থায়ী ইয়ুথ ক্যাম্প এবং আর্টস সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন এই বিশ্বখ্যাত গায়িকা। কিন্তু তার এ উদ্যোগের ঘোর বিরোধিতা করছেন স্থানীয়রা। প্রজেক্টটি বাতিলের দাবিতে ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ প্রতিবেশী একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন।

কেটি পেরি ও তার বোন অ্যাঞ্জেলা লার্চ তাদের অলাভজনক সংস্থা ফায়ারওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ‘গ্র্যাটিচ্যুড ক্যানিয়ন’ নামের এই প্রকল্প তৈরি করতে চাইছেন। মূলত ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সী সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিল্প, সংগীত ও প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করতেই এই ক্যাম্পের পরিকল্পনা। ১১০ একরের এই সম্পত্তিতে ৮টি কেবিন, ডাইনিং হল, জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, অ্যাম্ফিথিয়েটার এবং একটি রেকর্ডিং স্টুডিও নির্মাণের কথা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা কেটি পেরির দাতব্য কাজের প্রশংসা করলেও, নিজেদের আবাসিক এলাকায় এত বড় প্রকল্প মেনে নিতে নারাজ। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার এই এলাকা দাবানলপ্রবণ হওয়ায় যেকোনো জরুরি অবস্থায় একসঙ্গে এত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া কঠিন হতে পারে। এ ছাড়া এ ধরনের একটি প্রজেক্ট চালু হলে সেখানে প্রতিনিয়ত গাড়ি ও মানুষের আনাগোনা বাড়বে, যার ফলে চরম যানজট ও মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের শিকার হবেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, এখানে বিভিন্ন কনসার্ট বা বড় ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে। এতে এলাকাটি তার আবাসিক সৌন্দর্য হারিয়ে পুরোপুরি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে।

তবে কেটি পেরির ফাউন্ডেশনের দাবি, পুরো জায়গার মাত্র ৩ শতাংশে স্থাপনা থাকবে, বাকি ৯৭ শতাংশই উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ হিসেবে সংরক্ষিত রাখা হবে। ফায়ার সেফটি ও শব্দদূষণ রোধে বিশেষজ্ঞ এবং অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করেই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

গ্র্যাটিচ্যুড ক্যানিয়ন প্রকল্পটি এখন কাউন্টি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবেশগত আইনের অধীনে এর প্রভাব মূল্যায়ন এবং আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণশুনানির পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সার্বিক মিলিয়ে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের আপত্তির মুখে কেটি পেরির এই স্বপ্নের প্রজেক্ট শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুলবাড়ী থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলনের দাবিতে সর্বস্তরের এলাকাবাসীর মানববন্ধন

06 November 2026

বগুড়ায় পুলিশকে পিটিয়ে আসামি ছিনতাই, গাড়ি ভাঙচুর: আটক ৪

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

স্থানীয়দের আপত্তির মুখে কেটি পেরির ‘ইয়ুথ ক্যাম্প ও আর্টস সেন্টার’ প্রকল্প

হালনাগাদ সময় : ০৫:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

পপ সুপারস্টার কেটি পেরির একটি নতুন প্রকল্প ঘিরে ক্যালিফোর্নিয়ার গোলেটা ভ্যালির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ১১০ একর জায়গাজুড়ে একটি স্থায়ী ইয়ুথ ক্যাম্প এবং আর্টস সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন এই বিশ্বখ্যাত গায়িকা। কিন্তু তার এ উদ্যোগের ঘোর বিরোধিতা করছেন স্থানীয়রা। প্রজেক্টটি বাতিলের দাবিতে ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ প্রতিবেশী একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন।

কেটি পেরি ও তার বোন অ্যাঞ্জেলা লার্চ তাদের অলাভজনক সংস্থা ফায়ারওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ‘গ্র্যাটিচ্যুড ক্যানিয়ন’ নামের এই প্রকল্প তৈরি করতে চাইছেন। মূলত ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সী সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিল্প, সংগীত ও প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করতেই এই ক্যাম্পের পরিকল্পনা। ১১০ একরের এই সম্পত্তিতে ৮টি কেবিন, ডাইনিং হল, জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, অ্যাম্ফিথিয়েটার এবং একটি রেকর্ডিং স্টুডিও নির্মাণের কথা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা কেটি পেরির দাতব্য কাজের প্রশংসা করলেও, নিজেদের আবাসিক এলাকায় এত বড় প্রকল্প মেনে নিতে নারাজ। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার এই এলাকা দাবানলপ্রবণ হওয়ায় যেকোনো জরুরি অবস্থায় একসঙ্গে এত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া কঠিন হতে পারে। এ ছাড়া এ ধরনের একটি প্রজেক্ট চালু হলে সেখানে প্রতিনিয়ত গাড়ি ও মানুষের আনাগোনা বাড়বে, যার ফলে চরম যানজট ও মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের শিকার হবেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, এখানে বিভিন্ন কনসার্ট বা বড় ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে। এতে এলাকাটি তার আবাসিক সৌন্দর্য হারিয়ে পুরোপুরি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে।

তবে কেটি পেরির ফাউন্ডেশনের দাবি, পুরো জায়গার মাত্র ৩ শতাংশে স্থাপনা থাকবে, বাকি ৯৭ শতাংশই উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ হিসেবে সংরক্ষিত রাখা হবে। ফায়ার সেফটি ও শব্দদূষণ রোধে বিশেষজ্ঞ এবং অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করেই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

গ্র্যাটিচ্যুড ক্যানিয়ন প্রকল্পটি এখন কাউন্টি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবেশগত আইনের অধীনে এর প্রভাব মূল্যায়ন এবং আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণশুনানির পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সার্বিক মিলিয়ে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের আপত্তির মুখে কেটি পেরির এই স্বপ্নের প্রজেক্ট শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

Share this news as a Photo Card