একজন ডিফেন্ডারকে স্ট্রাইকার বানিয়ে চমক দিতে চেয়েছিলেন কোচ! কিন্তু সেই পরীক্ষায় মিলল না কাঙ্ক্ষিত ফল। শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে মাঠে নামা এক ফরোয়ার্ডই হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের জয়ের কারিগর। ভুটানের বিপক্ষে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে টমাস ডুলির কৌশল, বিশ্বনাথ ঘোষের নতুন ভূমিকায় অস্বস্তি আর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের চার মিনিটের জাদু-সব মিলিয়ে জয় পেল বাংলাদেশ। তবে তিন পয়েন্টের স্বস্তির আড়ালে কোচের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নও কম নয়!
গত রাতে ম্যাচের আগে বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তার কেন্দ্রে ছিলেন বিশ্বনাথ। দীর্ঘদিনের পরিচিত ডিফেন্ডারকে এবার আক্রমণভাগের কেন্দ্রে দাঁড় করিয়ে দেন ডুলি। পেশাদার ক্যারিয়ারে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ১৯৬ ম্যাচ খেলা এই ফুটবলারের গোলের খাতা তখনো ছিল শূন্য। অথচ সাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে তাকেই বানানো হলো সেন্টার ফরোয়ার্ড।
পরীক্ষাটি অবশ্য হঠাৎ নেওয়া হয়নি। গত সেপ্টেম্বরে ফিফা আসিয়ান কাপের আগেও বিশ্বনাথকে ফরোয়ার্ড হিসেবে অনুশীলন করিয়েছিলেন ডুলি। চোটের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। সাফের আগে দলে ফিরতেই আবারও তাকে নতুন ভূমিকায় দেখার সিদ্ধান্ত নেন কোচ। ভুটানের বিপক্ষে সেই পরীক্ষা বাস্তবে রূপ নেয়।
কিন্তু মাঠের চিত্র কোচের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। আক্রমণভাগে বিশ্বনাথকে খুব একটা স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি। স্ট্রাইকারের মতো বল নিয়ন্ত্রণ, জায়গা তৈরি কিংবা দ্রুত ফিনিশিং-কোনোটিতেই প্রত্যাশিত ছাপ রাখতে পারেননি তিনি। প্রথমার্ধে হেডের সুযোগ নষ্ট করেন, গোলকিপারকে সামনে পেয়েও বল জাله পাঠাতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে ক্লান্ত হয়ে পড়লে ৬৪ মিনিটে তাকে তুলে নেন ডুলি।
তখনই মাঠে আসেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। আর বদলি হিসেবে নামার চার মিনিটের মাথায় গোল করে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন তিনি। আসিয়ান কাপের দলে জায়গা না পাওয়া এই ফুটবলারই এবার বাংলাদেশের জয়ের নায়ক। তার গোল শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, কোচের জন্যও তৈরি করেছে নতুন উপলব্ধি।
কারণ, ইব্রাহিমকে মূলত গোল করানোর উদ্দেশ্যে মাঠে নামাননি ডুলি। তার পরিকল্পনা ছিল মাঝমাঠে বল ধরে রেখে সতীর্থদের আক্রমণে সহায়তা করা। সংবাদ সম্মেলনে কোচ নিজেই স্বীকার করেছেন, ইব্রাহিমের কাছ থেকে সরাসরি গোল আশা করেননি।
ডুলি বলেন, ‘ম্যাচের একটি পর্যায়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বিশ্বনাথ কিছুটা হাঁপিয়ে উঠেছিল। আর আপনারা জানেন, সে বল হোল্ড করে রাখার মতো খেলোয়াড় নয়। আমাদের এমন কাউকে প্রয়োজন ছিল যে বল ধরে রেখে শামিত, রাকিব এবং ফাহিমদের ওপরে ওঠার সুযোগ করে দেবে। সেদিক থেকে ইব্রাহিম মাঝমাঠের জন্য একদম আদর্শ ছিল। আমরা শামিতকে ওপরে তুলে দিই। শমিত ১০ নম্বর পজিশনে অনেক পরিশ্রম করেছে, নিচ থেকে বল রিসিভ করে আক্রমণভাগে বাড়িয়েছে; কিন্তু তখন সামনে ফিনিশ করার জন্য সে নিজে উপস্থিত ছিল না।’
নিজের পরিকল্পনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তাই আমি ভাবলাম বিশ্বনাথকে তুলে ইব্রাহিমকে ১০ নম্বরে এবং শামিতকে একদম ওপরে খেলানো ভালো হবে। এতে শামিত গোলের সামনে কিছুটা শক্তি বাঁচিয়ে হেড দিয়ে গোল

























