দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজ যেমন গোসল করা, বাজারে যাওয়া কিংবা কোনো বার্তার উত্তর দেওয়া অনেকের কাছে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ দৃষ্টিতে অনেকেই একে অলসতা, উদাসীনতা বা ইচ্ছাশক্তির ঘাটতি বলে মনে করেন। তবে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, বিষয়টির পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের গভীর স্নায়বিক হিসাব-নিকাশ।
জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাটিয়াস পিলনির সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রেরণা বা মোটিভেশন কেবল ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভরশীল কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত মস্তিষ্কের একটি অবচেতন খরচ ও লাভের মূল্যায়ন বা ‘কস্ট-বেনেফিট অ্যানালাইসিস’। যেকোনো কাজের পূর্বে মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনটি প্রশ্নের সমাধান খোঁজে—কাজটিতে কী পরিমাণ শারীরিক বা মানসিক শ্রম প্রয়োজন, এর বিনিময়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার বা প্রাপ্তি কতটা এবং সেই পুরস্কার আদৌ অর্জিত হবে কি না।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ অবস্থায় এই মূল্যায়ন মানুষের শক্তি ও সময়ের সঠিক ব্যবহারে সাহায্য করে। তবে জটিল মানসিক সমস্যায় এই বিচারপ্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ৬৮টি গবেষণার মেটা-বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, সিজোফ্রেনিয়া, ডিপ্রেশন ও বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পুরস্কারের আশায় পরিশ্রম করার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে পুরস্কার নিশ্চিত বা আকর্ষণীয় হলেও তারা সে অনুযায়ী কাজ করার উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলেন, যা মূলত ইচ্ছাশক্তিকে পঙ্গু করে দেয়।


























