অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস মানবদেহের বিপাক প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে দেখা দেয় গেঁটে বাত বা গাউটজনিত তীব্র ব্যথা। তাই সুস্থ থাকতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে বার্গার, পিৎজা ও কোমল পানীয়ের মতো জাঙ্ক ফুড অনেকের প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাসে পরিণত হয়েছে। স্বাদের কারণে নিয়মিত এগুলো খাওয়া হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে অধিকাংশ মানুষই উদাসীন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও বিপাকজনিত ত্রুটির ফলেই রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে পারে।
চীনের গবেষকদের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় মানবদেহের অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার (গাট মাইক্রোবায়োম) সঙ্গে ইউরিক অ্যাসিডের বৃদ্ধি ও গাউটের সম্ভাব্য সম্পর্কের দিকটি উঠে এসেছে। দেখা গেছে, গেঁটে বাতে ভোগা রোগীদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন থাকে। তবে কেবল জাঙ্ক ফুড খেলেই জয়েন্টে ব্যথা বাতের কারণে হবে, এমন চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো মেলেনি।
রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে তার স্ফটিক বা ক্রিস্টাল জয়েন্টগুলোতে জমতে শুরু করে। এতে হঠাৎ করেই আক্রান্ত স্থানে অসহনীয় ব্যথা, ফোলাভাব, লালচে দাগ ও গরম অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এ অবস্থাকে গাউট বলা হয়, যা সাধারণত পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে বেশি দেখা দিলেও হাঁটু, গোড়ালি কিংবা হাতের আঙুলেও ছড়াতে পারে।
জয়েন্ট সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের মেন্যুতে তাজা শাকসবজি, ফলমূল ও পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রচুর পানি পানের পাশাপাশি চিনিযুক্ত পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বর্জন করতে হবে। এছাড়া জয়েন্টে তীব্র ব্যথা কিংবা ফোলাভাবের সঙ্গে জ্বর দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।


























