দেশে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। আসন্ন ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ‘নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা’ কোর্স। একইসঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্যও নিয়মিত কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
নৈতিকতার অবক্ষয় রোধে উদ্যোগ
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, “দেশে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় গভীর অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে অনৈতিকতা বিস্তার লাভ করেছে। এর সঙ্গে জড়িত অনেকেই উচ্চশিক্ষিত; তারা যখন কর্মক্ষেত্রে যায়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে, তখন তাদের অনৈতিকতার প্রভাব সমাজ ও রাষ্ট্রকে প্রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র–শিক্ষক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে। এসব অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যই আমরা এই কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
নেতৃত্বগুণে নৈতিকতার সমন্বয়
প্রো–ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সব সময় রাষ্ট্র ও সমাজের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। তাই তাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা চাই, ভবিষ্যতের প্রতিটি নেতৃত্ব যেন নৈতিকতার আলোয় আলোকিত হয়।”
ঢাবি প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য এটি হবে একটি বাধ্যতামূলক মানবিক শিক্ষা কর্মসূচি, যা দেশের উচ্চশিক্ষায় নৈতিকতার পুনর্জাগরণের নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্বকে আরও নৈতিক ও মানবিক করে গড়ে তুলবে।
রিপোর্টারের নাম 

























