গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া জাহাজ বহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ থেকে আটক হওয়ার পর সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তুরস্কের মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করেছেন, গ্রেটাকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়া, হামাগুড়ি দিতে বাধ্য করা এবং জোর করে ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খাওয়ানো হয়েছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এই অভিযোগের খবর জানায়।
ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয় গ্রেটাকে
তুরস্কের মানবাধিকার কর্মী এরসিন চেলিক স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্বজুড়ে পরিচিত মুখ হওয়ায় গ্রেটাকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয়। তিনি বলেন, “আমাদের সামনেই গ্রেটাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। সে তো সবে তরুণী। তাকে পতাকায় চুমু দিতে বাধ্য করা হয়েছে, ঠিক যেমন নাৎসিরা একসময় মানুষকে অপমান করত।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্রেটাকে প্রকাশ্যে ‘ট্রফির’ মতো প্রদর্শন করা হয়েছে।
মার্কিন নাগরিক উইন্ডফিল্ড বিবার এবং ইতালির সাংবাদিক লরেঞ্জো আগোস্তিনো একই অভিযোগ করে বলেন, ২২ বছর বয়সী এই সাহসী নারীকে পতাকায় মুড়িয়ে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়েছে, যা মানবিক লজ্জা।
অমানবিক আচরণের অভিযোগ
আটক হওয়া মালয়েশীয় অধিকারকর্মী হাজওয়ানি হেলমি অভিযোগ করেন, তাদের সঙ্গে পশুর মতো ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ কিছুই দেওয়া হয়নি এবং তীব্র গরমে ঝলসে দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি টয়লেটের পানি খেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আরেক কর্মী আয়সিন কানতোগ্লু আটক কেন্দ্রে দেয়ালে রক্তের দাগ ও আগের বন্দিদের বার্তা দেখার কথা জানিয়ে বলেন, তারা ফিলিস্তিনিদের যন্ত্রণার সামান্য অংশ অনুভব করেছেন। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ জানিয়েছে, আটক কর্মীদের হাত জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়, ওষুধ ও আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলের অস্বীকার
তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের খাবার, পানি ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।
গাজার ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৪০টি নৌকা গত ১ ও ২ অক্টোবর ইসরায়েলি নৌবাহিনী আটক করে, যেখানে ৪৫০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। গত শনিবার থেকে ইসরায়েল বন্দিদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে। ইতালির ২৬ জন নাগরিককে ফেরত পাঠানো হলেও, গ্রেটা থুনবার্গকে ইসরায়েল থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রিপোর্টারের নাম 
























