ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের আন্দোলন টানা ২২ দিনে গড়িয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে জাতীয়করণসহ বিভিন্ন দাবিতে অব্যাহত রয়েছে তাদের অবস্থান কর্মসূচি। আশ্বাস ও আলোচনা সত্ত্বেও এখনও দাবি পূরণ না হওয়ায় শিক্ষকরা আন্দোলন থেকে সরে আসেননি, বরং অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন সব ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে জাতীয়করণের আওতায় না আনা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে প্রতিবেদন লেখার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বিভিন্ন দাবিতে টানা ২২তম দিনের মতো জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর আগে রবিবার (২ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছিল যে, সোমবারের মধ্যেই অনুদানভুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর জাতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
রবিবারও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা। পরে দুপুরে তারা যমুনা অভিমুখে লংমার্চ শুরু করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। বিকালে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে আলোচনায় অংশ নেয়। সেখান থেকে ফিরে এসে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
তবে এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন অনুদানবিহীন মাদ্রাসার শিক্ষকরা। তারা জানিয়েছেন, অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন সব ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে জাতীয়করণের আওতায় না আনা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রম জাতীয়করণের দাবিতে গত ১২ অক্টোবর থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। তারা ৩০ অক্টোবর বিকালের মধ্যে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের আল্টিমেটাম দেন এবং ২ নভেম্বর প্রেসক্লাব থেকে যমুনা অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দেন।
এর আগে ২৯ অক্টোবর সচিবালয় অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও জলকামান নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এতে আহত হন অর্ধশতাধিক শিক্ষক, যাদের অনেকেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়ে আহতদের চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. সামছুল আলম।
রিপোর্টারের নাম 

























