ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

কিমের নীরবতা: ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানের নেপথ্যে রাশিয়া-চীনের নতুন কৌশলগত সম্পর্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৬:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

একসময় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ‘ভালোবাসার’ সম্পর্কে আবদ্ধ থাকার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এবার ট্রাম্পের প্রকাশ্য আমন্ত্রণ সত্ত্বেও কিম কোনো সাড়া দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে কিমের আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি তোলার মতো প্রয়োজনীয়তা নেই। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।

এশিয়া সফরে ট্রাম্প একাধিকবার কিমের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এমনকি তিনি বলেন, আমি ১০০ শতাংশ প্রস্তুত, এবং উত্তর কোরিয়াকে ‘একধরনের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র’ হিসেবেও তিনি স্বীকার করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির পরিপন্থী।

কিন্তু পিয়ংইয়ং কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে উল্টো একাধিক মিসাইল পরীক্ষা চালায় এবং তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাশিয়া ও বেলারুশে পাঠায়। হার্ভার্ড এশিয়া সেন্টারের ভিজিটিং স্কলার সং-হিওন লি মন্তব্য করেন, বাস্তবতা হলো, কিম জং উনের অংশগ্রহণের আগ্রহ জাগানোর মতো কিছু ছিল না। এটি ওয়াশিংটনের একটি গুরুতর ভুল।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের বারবার আহ্বান আসলে কিমের জন্যই একপ্রকার ‘কূটনৈতিক জয়’, যা তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে বৈধতা দেয়। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের টুইটার আহ্বানের পর দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তের পানমুনজমে ট্রাম্প ও কিমের শেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল। কিন্তু হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

এরপর উত্তর কোরিয়া নিজেকে ‘অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করে। এমনকি তারা ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়াকে সহায়তা পাঠায়। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক সু কিম বলেন, রাশিয়ার সমর্থনই এখন উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধি করেছে। এতে কিম এমন অবস্থানে আছেন যে, ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা তার জন্য সহজ।

এদিকে, কিমের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছো সন হুই এ সপ্তাহে মস্কো সফরে গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের চুক্তি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে উত্তর কোরিয়া এখন অর্থনৈতিক সহায়তা, সামরিক প্রযুক্তি, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ পাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমাতে সহায়তা করছে। চীনের সঙ্গেও তাদের বাণিজ্য প্রায় ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মাসে কিমকে বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে শি জিনপিং এবং পুতিনের পাশে দেখা গিয়েছিল, যা তার আন্তর্জাতিক মর্যাদার এক নতুন প্রতীক।

হার্ভার্ডের সং-হিওন লি বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে এই নতুন কৌশলগত সম্পর্কের কারণে ট্রাম্পের সঙ্গে শুধু একটি ফটোসেশনের জন্য কিমের কিছু হারানোর নেই। বরং তিনি এখন কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরীয় অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ভ্লাদিমির টিখোনভ বলেন, ২০১৯ সালের হ্যানয় ব্যর্থতার পর পিয়ংইয়ং এখন অনেক সতর্ক। তারা এখন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের অপেক্ষায়, যেমন কূটনৈতিক স্বীকৃতি বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিমের নীরবতা: ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানের নেপথ্যে রাশিয়া-চীনের নতুন কৌশলগত সম্পর্ক

আপডেট সময় : ০৭:১৬:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

একসময় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ‘ভালোবাসার’ সম্পর্কে আবদ্ধ থাকার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এবার ট্রাম্পের প্রকাশ্য আমন্ত্রণ সত্ত্বেও কিম কোনো সাড়া দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে কিমের আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি তোলার মতো প্রয়োজনীয়তা নেই। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।

এশিয়া সফরে ট্রাম্প একাধিকবার কিমের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এমনকি তিনি বলেন, আমি ১০০ শতাংশ প্রস্তুত, এবং উত্তর কোরিয়াকে ‘একধরনের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র’ হিসেবেও তিনি স্বীকার করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির পরিপন্থী।

কিন্তু পিয়ংইয়ং কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে উল্টো একাধিক মিসাইল পরীক্ষা চালায় এবং তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাশিয়া ও বেলারুশে পাঠায়। হার্ভার্ড এশিয়া সেন্টারের ভিজিটিং স্কলার সং-হিওন লি মন্তব্য করেন, বাস্তবতা হলো, কিম জং উনের অংশগ্রহণের আগ্রহ জাগানোর মতো কিছু ছিল না। এটি ওয়াশিংটনের একটি গুরুতর ভুল।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের বারবার আহ্বান আসলে কিমের জন্যই একপ্রকার ‘কূটনৈতিক জয়’, যা তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে বৈধতা দেয়। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের টুইটার আহ্বানের পর দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তের পানমুনজমে ট্রাম্প ও কিমের শেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল। কিন্তু হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

এরপর উত্তর কোরিয়া নিজেকে ‘অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করে। এমনকি তারা ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়াকে সহায়তা পাঠায়। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক সু কিম বলেন, রাশিয়ার সমর্থনই এখন উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধি করেছে। এতে কিম এমন অবস্থানে আছেন যে, ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা তার জন্য সহজ।

এদিকে, কিমের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছো সন হুই এ সপ্তাহে মস্কো সফরে গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের চুক্তি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে উত্তর কোরিয়া এখন অর্থনৈতিক সহায়তা, সামরিক প্রযুক্তি, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ পাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমাতে সহায়তা করছে। চীনের সঙ্গেও তাদের বাণিজ্য প্রায় ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মাসে কিমকে বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে শি জিনপিং এবং পুতিনের পাশে দেখা গিয়েছিল, যা তার আন্তর্জাতিক মর্যাদার এক নতুন প্রতীক।

হার্ভার্ডের সং-হিওন লি বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে এই নতুন কৌশলগত সম্পর্কের কারণে ট্রাম্পের সঙ্গে শুধু একটি ফটোসেশনের জন্য কিমের কিছু হারানোর নেই। বরং তিনি এখন কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরীয় অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ভ্লাদিমির টিখোনভ বলেন, ২০১৯ সালের হ্যানয় ব্যর্থতার পর পিয়ংইয়ং এখন অনেক সতর্ক। তারা এখন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের অপেক্ষায়, যেমন কূটনৈতিক স্বীকৃতি বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।