দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘকাল ধরে আলোচিত ব্যক্তিত্ব বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনা ও বিশ্লেষণে সাম্প্রতিক সময়ে একটি নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একসময় তাদের বিষয়ে কঠোর সমালোচনামুখর অবস্থানে থাকা গণমাধ্যমগুলোর একাংশে এখন তুলনামূলকভাবে ভিন্ন সুর পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মিডিয়া পর্যবেক্ষক মহলে আলোচনা চলছে। এই পরিবর্তনকে অনেকে গণমাধ্যমের নিজস্ব গতিপ্রকৃতি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনার ধারা সব সময়ই রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘিরে জনমত গঠন এবং তাদের প্রতি গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। এক্ষেত্রে, রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত পরিবর্তন, আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের রায়, এমনকি জনমতের ওঠানামাও গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনায় প্রভাব ফেলে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা দলের প্রতি গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি কেবল সম্পাদকীয় নীতির ওপর নির্ভর করে না, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং পাঠকের চাহিদাও এর পেছনে কাজ করে। অতীতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে যে ধরনের তীক্ষ্ণ সমালোচনা বা নেতিবাচক উপাদান প্রাধান্য পেয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তার কিছু অংশে শৈথিল্য বা ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি কি রাজনৈতিক মেরুকরণের পরিবর্তন, নাকি গণমাধ্যমের নিজস্ব বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ার ফসল – তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।
গণমাধ্যমের এই ধরনের পরিবর্তনশীলতা গণতন্ত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে। একটি স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম সব পক্ষের সংবাদ ও মতামত তুলে ধরে জনমত গঠনে সহায়তা করে। তবে, এই পরিবর্তন যেন কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়ে বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদারিত্বের মানদণ্ড বজায় রাখে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণমাধ্যমের এই পরিবর্তিত প্রবণতা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে, এটি স্পষ্ট যে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গণমাধ্যমের আলোচনা ও সমালোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন মাত্রা পেতে পারে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতার একটি প্রতিচ্ছবি।
রিপোর্টারের নাম 























