আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মিশন কেবল সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান পর্যবেক্ষক ইয়ার ইয়াবস। গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। ইইউ আশা করে, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন হবে স্বচ্ছ, অবাধ, গ্রহণযোগ্য এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ।
ইয়ার ইয়াবস বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন প্রায় দুই মাস বাংলাদেশে অবস্থান করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এটি ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ইইউর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জোর দেন, নারী-পুরুষ, সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সমাজের সকল অংশের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কত শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলো, সেটিও মিশনের মূল্যায়নে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
নির্বাচনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে ইয়ার ইয়াবস পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে একটি ভারসাম্য আনাই এই নির্বাচনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
মিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে ইয়ার ইয়াবস বলেন, ডিসেম্বরের শেষ দিকে ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাদের কাজ শুরু করেছে। আজ ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ঢাকায় পৌঁছেছেন, যারা প্রয়োজনীয় ব্রিফিং শেষে আগামী ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় মোতায়েন হবেন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। নির্বাচনের ঠিক আগে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক তাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন। এছাড়াও ইইউ সদস্য রাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবেন। ভোটের কাছাকাছি সময়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদলও মিশনকে শক্তিশালী করবে। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় এই মিশনে ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশ থেকে আসা প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন।
মিশনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচন কতটা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা আইনি কাঠামো, নির্বাচন পরিচালনা ব্যবস্থা, নির্বাচনি পরিবেশ, প্রার্থীদের আচরণ, ভোটার তালিকার প্রতি আস্থা, নির্বাচনি বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের পরিসর এবং পুরো প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব। গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত আলোচনার প্রতিও বিশেষ নজর থাকবে।
ইয়ার ইয়াবস জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্র খোলার সময় থেকে শুরু করে ভোট গণনা ও ফলাফল সংকলন শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরো দিনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষকরা তদারকি করবেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ নির্বাচনের দুই দিন পর ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মিশন বাংলাদেশে থাকবে এবং প্রায় দুই মাস পর তিনি নিজে আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশও থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচন ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করবে এবং সকল ভোটার ও প্রার্থীর জন্য নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে। মিশনের সদস্যরা মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমও পর্যবেক্ষণ করবেন বলে তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























