আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই বলে অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করতে ‘দলীয়’ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছে দলটি। গতকাল বুধবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে এক বৈঠকে জামায়াতের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই দাবি উত্থাপন করে। বৈঠক শেষে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, আগামী নির্বাচন যদি কোনোভাবে ‘সাজানো’ হয়, তবে দেশ অস্তিত্বের সংকটে পড়বে।
জামায়াতের অভিযোগ, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় চরম বৈষম্য করা হয়েছে এবং একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়েছে। এর পেছনে মাঠ প্রশাসনে নিয়োজিত দলীয় কর্মকর্তাদের প্রভাব রয়েছে বলে তারা মনে করেন। যদিও দলটি এখনো বিতর্কিত কর্মকর্তাদের কোনো তালিকা জমা দেয়নি, তবে তারা জানিয়েছে যে নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে দ্রুতই এই তালিকা নির্বাচন কমিশনে পেশ করা হবে। এর আগে গত মঙ্গলবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রশাসনের বিশেষ দিকে ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিল।
বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানান, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিটিভি এখনো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারছে না এবং নির্দিষ্ট কিছু নেতাকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রদান করে জনমনে ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া একটি নির্দিষ্ট দল কর্তৃক কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঘটনাকে নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জামায়াত প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানালে কমিশন থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 

























