ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ভারি বৃষ্টিতে ভূমিধস, ওড়িশায় ২ মৃত্যু

গজপতি, রায়াগাদা ও কোরাপুট জেলার একাধিক স্থানে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার খবর মিলেছে।

প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে ভারতের ওড়িশার গজপতি জেলায় দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

মৃতদের মধ্যে ত্রিনাথ নায়েকের বাস বাসতিগুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে, আর লক্ষণ নায়েকের বাস মেরিপল্লী গ্রাম পঞ্চায়েতে।

এক্সে এক পোস্টে গজপতির জেলা প্রশাসক ভূমিধসে এ দুজনের মৃত্যু হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন এবং মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৪ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পরিস্থিতি মূল্যায়নে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী তার বাণিজ্য ও পরিবহন মন্ত্রীকে গজপতি গিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করারও নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে বাসতিগুড়ায় আর উদয়গিরি থানাধীন এলাকায়ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, মানুষ বাড়ি ফেরার সময় ভূমিধসে বড় বড় পাথর গড়িয়ে পড়েছে।

“আমরা রাতে ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করেছি। সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বুধিশিলা গ্রামে আরেকটি ভূমিধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আমরা সেটাও পরিষ্কার করেছি। মোহনা থানা এলাকায় তীব্র স্রোত এক লোককে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। উদ্ধার কার্যক্রমের পর আমরা সব মৃতদেহ উদ্ধার করেছি।

“একইভাবে মোহনার বান্ধাগুড়া গ্রামে এক লোক ভূমিধসের সময় নদী পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আটকা পড়েন। আমরা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি, পরে আজ সকালে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে,” শনিবার এএনআইকে এমনটাই বলেছেন গজপতির পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট জতীন্দ্র কুমার পান্ডা।

প্রবল বৃষ্টি ওড়িশার জীবনযাত্রায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। গজপতি, রায়াগাদা ও কোরাপুট জেলার একাধিক স্থানে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার খবর মিলেছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ রাজ্যটির বেশ কয়েকটি জেলায় অতি ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করার পর কর্তৃপক্ষ জানমাল রক্ষায় নানান পদক্ষেপ নেয়। তাতে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা কম হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত একাধিক দল রাস্তা পরিষ্কার করছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী কার্তিকা শাবারা এবং তার ছেলে রাজীব শাবারাও রয়েছে। রায়াগাদা ব্লকে একটি ভূমিধসের পর থেকে এ দুজনের খোঁজ মিলছে না।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা: চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা আপিলেও বাতিল

ভারি বৃষ্টিতে ভূমিধস, ওড়িশায় ২ মৃত্যু

আপডেট সময় : ১১:৪৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

গজপতি, রায়াগাদা ও কোরাপুট জেলার একাধিক স্থানে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার খবর মিলেছে।

প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে ভারতের ওড়িশার গজপতি জেলায় দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

মৃতদের মধ্যে ত্রিনাথ নায়েকের বাস বাসতিগুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে, আর লক্ষণ নায়েকের বাস মেরিপল্লী গ্রাম পঞ্চায়েতে।

এক্সে এক পোস্টে গজপতির জেলা প্রশাসক ভূমিধসে এ দুজনের মৃত্যু হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন এবং মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৪ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পরিস্থিতি মূল্যায়নে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী তার বাণিজ্য ও পরিবহন মন্ত্রীকে গজপতি গিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করারও নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে বাসতিগুড়ায় আর উদয়গিরি থানাধীন এলাকায়ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, মানুষ বাড়ি ফেরার সময় ভূমিধসে বড় বড় পাথর গড়িয়ে পড়েছে।

“আমরা রাতে ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করেছি। সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বুধিশিলা গ্রামে আরেকটি ভূমিধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আমরা সেটাও পরিষ্কার করেছি। মোহনা থানা এলাকায় তীব্র স্রোত এক লোককে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। উদ্ধার কার্যক্রমের পর আমরা সব মৃতদেহ উদ্ধার করেছি।

“একইভাবে মোহনার বান্ধাগুড়া গ্রামে এক লোক ভূমিধসের সময় নদী পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আটকা পড়েন। আমরা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি, পরে আজ সকালে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে,” শনিবার এএনআইকে এমনটাই বলেছেন গজপতির পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট জতীন্দ্র কুমার পান্ডা।

প্রবল বৃষ্টি ওড়িশার জীবনযাত্রায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। গজপতি, রায়াগাদা ও কোরাপুট জেলার একাধিক স্থানে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার খবর মিলেছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ রাজ্যটির বেশ কয়েকটি জেলায় অতি ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করার পর কর্তৃপক্ষ জানমাল রক্ষায় নানান পদক্ষেপ নেয়। তাতে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা কম হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত একাধিক দল রাস্তা পরিষ্কার করছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী কার্তিকা শাবারা এবং তার ছেলে রাজীব শাবারাও রয়েছে। রায়াগাদা ব্লকে একটি ভূমিধসের পর থেকে এ দুজনের খোঁজ মিলছে না।