ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সেনানিবাসে ‘অস্থায়ী কারাগার’ স্থাপন ও গ্রেফতারের ক্ষমতা নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশই গ্রেফতার করতে পারে, সেনাবাহিনীর সেই ক্ষমতা নেই। সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন। ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে ‘অস্থায়ী কারাগার’ হিসেবে ব্যবহারের ঘোষণার বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

তিনি আইনগত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো আসামিকে গ্রেফতারের পর অবশ্যই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে, যা দেশের সংবিধান, ট্রাইব্যুনাল আইন এবং ফৌজদারি কার্যবিধিতে 명시 করা আছে। এরপর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ীই তাকে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হবে।

তাজুল ইসলাম আরও যোগ করেন, কোনো স্থানকে কারাগার ঘোষণা করা প্রসিকিউশন বা তদন্তকারী সংস্থার এখতিয়ারে পড়ে না। তাদের মূল দায়িত্ব হলো আইন মেনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

কোনো সাবজেল ঘোষণার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কাগজপত্র তার হাতে আসেনি উল্লেখ করে প্রধান প্রসিকিউটর জানান, তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কিছু জানেন না। তবে তিনি বলেন, সরকার চাইলে যেকোনো জায়গাকে সাবজেল হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে এবং এই বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর সরাসরি কারাগারে পাঠানোর সুযোগ নেই। অভিযুক্তকে প্রথমে আদালতে উপস্থাপন করতে হয়। পরবর্তীতে আদালতের আদেশক্রমেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়, যা কেন্দ্রীয় কারাগার বা সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্য যেকোনো স্থানও হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর সরকার ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে অস্থায়ী কারাগার হিসেবে ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে সামরিক হেফাজতে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কারা-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং পূর্ববর্তী সরকারের শাসনামলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি ২৪ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। আদালত ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে পরদিন ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়।

এই আদেশের পর গত ১১ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান নিশ্চিত করেন যে, অভিযুক্তদের মধ্যে ১৫ জন কর্মকর্তা ঢাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মানি চেঞ্জারদের লাইসেন্স নবায়ন ফি দ্বিগুণ, কার্যকর ২০২৬ থেকে

সেনানিবাসে ‘অস্থায়ী কারাগার’ স্থাপন ও গ্রেফতারের ক্ষমতা নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় : ০৮:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশই গ্রেফতার করতে পারে, সেনাবাহিনীর সেই ক্ষমতা নেই। সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন। ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে ‘অস্থায়ী কারাগার’ হিসেবে ব্যবহারের ঘোষণার বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

তিনি আইনগত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো আসামিকে গ্রেফতারের পর অবশ্যই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে, যা দেশের সংবিধান, ট্রাইব্যুনাল আইন এবং ফৌজদারি কার্যবিধিতে 명시 করা আছে। এরপর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ীই তাকে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হবে।

তাজুল ইসলাম আরও যোগ করেন, কোনো স্থানকে কারাগার ঘোষণা করা প্রসিকিউশন বা তদন্তকারী সংস্থার এখতিয়ারে পড়ে না। তাদের মূল দায়িত্ব হলো আইন মেনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

কোনো সাবজেল ঘোষণার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কাগজপত্র তার হাতে আসেনি উল্লেখ করে প্রধান প্রসিকিউটর জানান, তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কিছু জানেন না। তবে তিনি বলেন, সরকার চাইলে যেকোনো জায়গাকে সাবজেল হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে এবং এই বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর সরাসরি কারাগারে পাঠানোর সুযোগ নেই। অভিযুক্তকে প্রথমে আদালতে উপস্থাপন করতে হয়। পরবর্তীতে আদালতের আদেশক্রমেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়, যা কেন্দ্রীয় কারাগার বা সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্য যেকোনো স্থানও হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর সরকার ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে অস্থায়ী কারাগার হিসেবে ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে সামরিক হেফাজতে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কারা-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং পূর্ববর্তী সরকারের শাসনামলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি ২৪ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। আদালত ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে পরদিন ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়।

এই আদেশের পর গত ১১ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান নিশ্চিত করেন যে, অভিযুক্তদের মধ্যে ১৫ জন কর্মকর্তা ঢাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।