যুক্তরাষ্ট্রের অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক মার্টিন স্কোরসেসি তাঁর ৮২ বছরের জীবনের ৫০ বছর ধরেই চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত আছেন। এই কিংবদন্তি নির্মাতার জীবন ও কর্ম তুলে ধরতে অ্যাপল টিভি প্লাস একটি পাঁচ পর্বের তথ্যচিত্র তৈরি করেছে।
দ্য হলিউড রিপোর্টার-এর খবর অনুযায়ী, তথ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘মিস্টার স্কোরসেসি’ এবং এটি পরিচালনা করেছেন রেবেকা মিলার। এই তথ্যচিত্রে স্কোরসেসি তাঁর স্বপ্নের কথা ও সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গির কথা বিস্তারিতভাবে বলেছেন। তাঁর পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের বেশ কিছু অজানা তথ্যও তুলে ধরা হবে এই তথ্যচিত্রে। এতে রয়েছে তাঁর একান্ত সাক্ষাৎকার এবং সিনেমার শুটিংয়ের নেপথ্যের গল্প। স্কোরসেসিকে নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং হলিউডের একাধিক তারকার মতামতও সেখানে স্থান পেয়েছে।
রবার্ট ডি নিরো, ড্যানিয়েল ডে-লুইস, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, মিক জ্যাগার, স্টিভেন স্পিলবার্গ, শ্যারন স্টোন, জোডি ফস্টার, স্পাইক লি, কেট ব্ল্যানচেট সহ আরও অনেকে এই কালজয়ী নির্মাতাকে নিয়ে কথা বলেছেন। এই তথ্যচিত্রে খোঁজা হয়েছে, কীভাবে দশকের পর দশক ধরে এই নির্মাতা হলিউডে নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন।
অ্যাপল টিভি প্লাস এই তথ্যচিত্রের ট্রেলার প্রকাশ করেছে। সেখানে স্কোরসেসিকে মনিটরের সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। এরপর একের পর এক আসতে থাকে শুটিংয়ের সময়ের তাঁর ছবি ও ভিডিও। ট্রেইলারে ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ ও ‘রেজিং বুল’ সহ বিভিন্ন কালজয়ী সিনেমার ভিডিও ক্লিপও ব্যবহার করা হয়েছে।
নেপথ্যে ভেসে আসে স্কোরসেসির কণ্ঠস্বর, যেখানে তিনি বলেন, “আমরা কারা? আমরা কি ভেতর থেকে ভালো, না খারাপ? এটা খোঁজাই সংগ্রাম। আমি সব সময় এটার সঙ্গেই সংগ্রাম করি। আমরা কোথায় যাচ্ছি আসলে? কোন গল্পটা বলতে চাই? আমি জানতাম, সিনেমার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করতে পারব। কিন্তু আমাকে নিজের পথ খুঁজে নিতে হবে।”
পাঁচ ঘণ্টার এই তথ্যচিত্রের ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছে নিউইয়র্ক ফিল্ম ফেস্টিভালে। আগামী ১৭ অক্টোবর এটি অ্যাপল টিভি প্লাসে মুক্তি পাবে। স্কোরসেসি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে ‘মিন স্ট্রিটস’, ‘ক্যাসিনো’, ‘গুডফেলাস’, ‘দ্য আইরিশম্যান’ সহ বহু সিনেমায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
তাঁর সর্বশেষ সিনেমা ‘কিলারস অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন’ ২০২৩ সালে মুক্তি পায় এবং দর্শকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়। দীর্ঘ নির্মাতা জীবনে তিনি শুধু অস্কারই নয়, বাফটা, এমি ও গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারও পেয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























