বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে উদার গণতন্ত্রের আদর্শ হিসেবে দাবি করলেও, দেশটির শাসনব্যবস্থা নিয়ে নতুন এক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা কি সত্যিই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চলছে, না কি এটি বৃহৎ করপোরেট ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি ‘টেকনো-প্লুটোক্রেটিক’ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে? যদিও মার্কিন সংবিধানে ক্ষমতার বিভাজন ও নাগরিক অধিকারের কথা স্পষ্ট বলা আছে, কিন্তু বাস্তব রাজনীতিতে প্রযুক্তিনির্ভর করপোরেট শক্তির প্রভাব এখন দৃশ্যমান।
আমেরিকার এই টেকনো-প্লুটোক্রেটিক ধারার শিকড় প্রোথিত রয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দীর শিল্পবিপ্লবের সময়কালে। সে সময় থেকেই বড় শিল্পপতিরা রাজনীতির নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন। আশির দশকে রেগনোমিকস বা করপোরেট কর কমানোর নীতির ফলে এই ধারা আরও বেগবান হয়। বর্তমান ডিজিটাল যুগে গুগল, ফেসবুক বা অ্যামাজনের মতো টেক জায়ান্টদের হাতে থাকা বিপুল তথ্য বা ‘বিগ ডেটা’ নির্বাচনী প্রচারণায় জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে। এতে সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ ও গণতন্ত্রের মূল দর্শন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অ্যালগরিদমিক শাসনব্যবস্থা এখন আইন প্রণয়ন ও জনপ্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। ফলে গণতন্ত্রের চিরাচরিত রূপ ম্লান হয়ে আসছে এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হচ্ছে গুটিকয়েক প্রযুক্তি ও অর্থবিত্তের মালিকদের হাতে। এই পরিস্থিতি আমেরিকাকে এক জটিল রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যেখানে জনস্বার্থের চেয়ে করপোরেট স্বার্থই অনেক সময় প্রাধান্য পাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 



















