ঢাকা ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সংঘাতের মুখে সুরের প্রতিবাদ: বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে ‘তার’ বাজিয়ে শান্তির বার্তা আলি ঘামসারির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

যুদ্ধের হুমকি ও শক্তি প্রদর্শনের আবহাওয়ার মধ্যে ইরানের এক ব্যতিক্রমী শিল্পী সুরের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন শান্তির আকুতি। তেহরানের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পারদের মধ্যেই সংগীতশিল্পী আলি ঘামসারি এক ভিন্ন বার্তা নিয়ে হাজির হন। কোনো রাজনৈতিক স্লোগান বা বক্তব্য নয়, বরং একটি চাটাই ও পারস্য শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘তার’ হাতে তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে বসে পড়েন।

শান্ত ও ধীর বেদনার্ত সুর বাজিয়ে তিনি যেন অস্থিরতার মাঝে থামার আহ্বান জানান – মানুষ কাঁদছে, মানুষ মরছে, শান্ত হও! ভিডিওটিতে দেখা যায়, কঠোর শিল্প কাঠামোর বিপরীতে তার সুর এক অদ্ভুত কোমলতা তৈরি করছে, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

আলি ঘামসারি ইরানের সমসাময়িক সংগীত জগতে এক পরিচিত নাম। তিনি শুধু একজন দক্ষ ‘তার’ বাদকই নন, একজন সুরকার হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে। পারস্য শাস্ত্রীয় সংগীতকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপনের জন্য তার কাজ বিশেষভাবে প্রশংসিত। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে তিনি নিজস্ব এক সংগীতভাষা তৈরি করেছেন। তার এই পারফরম্যান্সও যেন তারই অংশ, যেখানে সংগীত কেবল শিল্প নয়, বরং একটি জোরালো অবস্থান নেওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে।

নিজের ভিডিও বার্তায় ঘামসারি বলেন, “আমি এখন দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আছি। এটি এমন একটি স্থান, যেটি হামলার হুমকির মুখে; যা আমি চাই না ঘটুক। আমি আশা করি, আমার তারের সুর শান্তির বার্তা বহন করবে এবং মানুষের ঘরের আলো নিভে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।” এই বিদ্যুৎকেন্দ্র তেহরানের একটি বড় অংশের বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, তাই এর নিরাপত্তা শুধু অবকাঠামোগত নয়, নাগরিক জীবনের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। পরবর্তীতে কূটনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির ঘোষণাও আসে, যা সাময়িক স্বস্তি এনে দেয়। এসব রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাইরে দাঁড়িয়ে আলি ঘামসারির এই সুর যেন সংঘাতের বিপরীতে সংস্কৃতি, ধ্বংসের বিপরীতে সৃজনশীলতা এবং বিভাজনের বিপরীতে ঐক্যের এক নতুন সম্ভাবনার কথা বলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের নিয়ে রাজনৈতিক শক্তি বাড়াচ্ছে এনসিপি

সংঘাতের মুখে সুরের প্রতিবাদ: বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে ‘তার’ বাজিয়ে শান্তির বার্তা আলি ঘামসারির

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধের হুমকি ও শক্তি প্রদর্শনের আবহাওয়ার মধ্যে ইরানের এক ব্যতিক্রমী শিল্পী সুরের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন শান্তির আকুতি। তেহরানের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পারদের মধ্যেই সংগীতশিল্পী আলি ঘামসারি এক ভিন্ন বার্তা নিয়ে হাজির হন। কোনো রাজনৈতিক স্লোগান বা বক্তব্য নয়, বরং একটি চাটাই ও পারস্য শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘তার’ হাতে তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে বসে পড়েন।

শান্ত ও ধীর বেদনার্ত সুর বাজিয়ে তিনি যেন অস্থিরতার মাঝে থামার আহ্বান জানান – মানুষ কাঁদছে, মানুষ মরছে, শান্ত হও! ভিডিওটিতে দেখা যায়, কঠোর শিল্প কাঠামোর বিপরীতে তার সুর এক অদ্ভুত কোমলতা তৈরি করছে, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

আলি ঘামসারি ইরানের সমসাময়িক সংগীত জগতে এক পরিচিত নাম। তিনি শুধু একজন দক্ষ ‘তার’ বাদকই নন, একজন সুরকার হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে। পারস্য শাস্ত্রীয় সংগীতকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপনের জন্য তার কাজ বিশেষভাবে প্রশংসিত। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে তিনি নিজস্ব এক সংগীতভাষা তৈরি করেছেন। তার এই পারফরম্যান্সও যেন তারই অংশ, যেখানে সংগীত কেবল শিল্প নয়, বরং একটি জোরালো অবস্থান নেওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে।

নিজের ভিডিও বার্তায় ঘামসারি বলেন, “আমি এখন দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আছি। এটি এমন একটি স্থান, যেটি হামলার হুমকির মুখে; যা আমি চাই না ঘটুক। আমি আশা করি, আমার তারের সুর শান্তির বার্তা বহন করবে এবং মানুষের ঘরের আলো নিভে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।” এই বিদ্যুৎকেন্দ্র তেহরানের একটি বড় অংশের বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, তাই এর নিরাপত্তা শুধু অবকাঠামোগত নয়, নাগরিক জীবনের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। পরবর্তীতে কূটনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির ঘোষণাও আসে, যা সাময়িক স্বস্তি এনে দেয়। এসব রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাইরে দাঁড়িয়ে আলি ঘামসারির এই সুর যেন সংঘাতের বিপরীতে সংস্কৃতি, ধ্বংসের বিপরীতে সৃজনশীলতা এবং বিভাজনের বিপরীতে ঐক্যের এক নতুন সম্ভাবনার কথা বলে।