ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

‘ইসলামিক বোমা’ ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি: এ কিউ খানের সেই আলোচিত অধ্যায়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির জনক ড. আব্দুল কাদির খান এবং তার বিতর্কিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি কেবল পাকিস্তানকেই পরমাণু শক্তিধর করেননি, বরং ইরান, লিবিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর কাছেও এই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সিআইএ ও মোসাদের মতো শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারি এড়িয়ে তার এই কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত দুঃসাহসিক।

সত্তরের দশকে ভারতের পরমাণু পরীক্ষার পর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো যেকোনো মূল্যে ‘ইসলামিক বোমা’ তৈরির প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের কারিগর ছিলেন কাদির খান। তিনি মনে করতেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো পৃথিবীর একক অভিভাবক নয়। ইসরাইলের পরমাণু সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের কর্মসূচি ঠেকাতে তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সিআইএ-র সাবেক পরিচালকদের মতে, কাদির খান ছিলেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

যদিও ২০০০ সালের গোড়ার দিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা বাধাগ্রস্ত হয়, তবে উত্তর কোরিয়া ঠিকই তার সহায়তায় পরমাণু শক্তিতে বলীয়ান হতে সক্ষম হয়। ড. কাদির খান এই প্রযুক্তি বিনিময়কে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখতেন। তার এই কর্মকাণ্ড একদিকে তাকে পাকিস্তানে জাতীয় বীরের মর্যাদা দিয়েছে, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে তাকে করে তুলেছে চরম বিতর্কিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের নিয়ে রাজনৈতিক শক্তি বাড়াচ্ছে এনসিপি

‘ইসলামিক বোমা’ ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি: এ কিউ খানের সেই আলোচিত অধ্যায়

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির জনক ড. আব্দুল কাদির খান এবং তার বিতর্কিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি কেবল পাকিস্তানকেই পরমাণু শক্তিধর করেননি, বরং ইরান, লিবিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর কাছেও এই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সিআইএ ও মোসাদের মতো শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারি এড়িয়ে তার এই কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত দুঃসাহসিক।

সত্তরের দশকে ভারতের পরমাণু পরীক্ষার পর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো যেকোনো মূল্যে ‘ইসলামিক বোমা’ তৈরির প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের কারিগর ছিলেন কাদির খান। তিনি মনে করতেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো পৃথিবীর একক অভিভাবক নয়। ইসরাইলের পরমাণু সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের কর্মসূচি ঠেকাতে তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সিআইএ-র সাবেক পরিচালকদের মতে, কাদির খান ছিলেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

যদিও ২০০০ সালের গোড়ার দিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা বাধাগ্রস্ত হয়, তবে উত্তর কোরিয়া ঠিকই তার সহায়তায় পরমাণু শক্তিতে বলীয়ান হতে সক্ষম হয়। ড. কাদির খান এই প্রযুক্তি বিনিময়কে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখতেন। তার এই কর্মকাণ্ড একদিকে তাকে পাকিস্তানে জাতীয় বীরের মর্যাদা দিয়েছে, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে তাকে করে তুলেছে চরম বিতর্কিত।