## নতুন শিরোনাম: শেখ হাসিনাকে ফেরত না পাঠালে ভারতের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি
কুমিল্লা: ভারতের কাছে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত না পাঠালে এবং কিছু নির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
মঙ্গলবার (১১ জুন) কুমিল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হলে অবশ্যই জুলাই গণহত্যার বিচার এবং শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে হবে। একই সাথে শহীদ উসমান হাদীর খুনিদেরও বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে। এই শর্তগুলো পূরণ হলেই আমরা ভারতের সাথে সুসম্পর্কের বিষয়ে বিবেচনা করব।”
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যা ঘটছে তা জনগণের রায়ের পরিপন্থী। তিনি বলেন, “আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ছিলাম এবং রায়কে জয়যুক্ত করেছি। কিন্তু এখন সেই গণভোটের রায়কে আদালতে টেনে নিয়ে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। আমরা এটি মানতে পারি না। যদি গণভোটের রায়কে এভাবে চ্যালেঞ্জ করা হয়, তবে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।” তিনি আরও বলেন, “হাইকোর্ট না রাজপথ – এই স্লোগান দিতে আমরা বাধ্য হতে চাই না। কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের এই পথে ঠেলে দিচ্ছে।”
এনসিপি নেতা জাতীয় সংসদকে ‘জাতীয় সংস্কার পরিষদ’ ঘোষণা করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সকল সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, “অন্যথায় এর বিকল্প কোনো কিছু আমরা মেনে নেব না।” রাজনৈতিক প্রশ্ন এবং জনগণের ম্যান্ডেটকে আদালতে নিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি সতর্ক করেন এবং আদালতকেও প্রশ্নবিদ্ধ না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে আজকের প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিগণ আসীন হয়েছেন। এই গণঅভ্যুত্থানই বর্তমান আদালত, নির্বাচন এবং সরকারের বৈধতার ভিত্তি।”
সংবিধানের দোহাই দিয়ে যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যদি পুরনো সংবিধানের কথা বলা হয়, তাহলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে হবে। বর্তমান সরকার তা মেনে নিতে প্রস্তুত কিনা, আমরা তা শুনতে চাই।”
কুমিল্লা বিভাগীয় এনসিপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, বৃহত্তর কুমিল্লা থেকেই এনসিপির অনেক কেন্দ্রীয় নেতা তৈরি হয়েছেন এবং এই অঞ্চলটি দলের জন্য সম্ভাবনাময়। তিনি বৃহত্তর কুমিল্লার নেতাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঢাকা থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাদের উৎসাহিত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে গুজবের স্বাধীনতা এবং বিভ্রান্তির চর্চায় ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি কিছু সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, তারা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের মতো বিশ্ব স্বীকৃত ব্যক্তিত্বকে হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরছে। আখতার হোসেন আরও বলেন, ড. ইউনুসের দায়িত্ব গ্রহণের ফলেই বাংলাদেশ জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণিত হতে পারেনি এবং জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পেরেছে।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আজকের ইফতার পার্টির আয়োজক হিসেবে তারা অন্য নেতৃবৃন্দকে বলার সুযোগ দেবেন এবং নিজেরা আপাতত কোনো বক্তব্য রাখবেন না।
এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, সরকার বিএনপি গঠন করলেও ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে ১১ দলীয় জোট। তিনি বলেন, “আপনাদের প্রচেষ্টায় গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর আমরা দেখতে পাচ্ছি সংস্কার নিয়ে এক ধরনের চোর-পুলিশ খেলা চলছে।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিরোধীদলকে জুলাই সনদকে সম্মান জানানোর কথা বলে এবং ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার কথা বলে ললিপপ দেখাচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাবিদ নওরোজ শাহের সঞ্চালনায় এবং এনসিপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে কুমিল্লা মহানগর জামাতের আমির কাজী দীন মোহাম্মদ, মহানগর এবি পার্টির সভাপতি মিয়া মো. তৌফিক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা এবি পার্টির সভাপতি গোলাম সামদানি, জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্র শক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























