ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু তোলা নিয়ে গোলাগুলি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বালু ব্যবসায়ীদের একাধিক অফিস ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও লভ্যাংশের ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বাহিরচর ইউনিয়নের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের বরাতে জানা যায়, একপক্ষ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে—এমন খবর পেয়ে অপর পক্ষ গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় ২৫-২৭ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। দুর্বৃত্তরা দুটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়, একটি ড্রাম্প ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে এবং কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

বালু ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, তার অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে। তার চাচাতো ভাই ফারুকের মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

অপর ব্যবসায়ী লিটন প্রামাণিক বলেন, তার অফিসও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘যে দল ক্ষমতায় আসে, সে দলই অবৈধ বালু উত্তোলন করে—এটাই বাস্তবতা।’

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, বিএনপির দুটি পক্ষ এবং জামায়াতে ইসলামীর নাম ভাঙিয়ে একটি গ্রুপ অবৈধ বালু উত্তোলনের চেষ্টা করছে। লভ্যাংশ ও ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা থাকলেও নদী-সংলগ্ন অন্যান্য প্রভাবশালী পক্ষের সঙ্গে বিরোধ থেকেই এ সহিংসতা হয়। অভিযানের সময় উত্তোলন বন্ধ থাকলেও পরে অদৃশ্য কারণে আবার বালু উত্তোলন শুরু হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার আগের দিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. গাজী আশিক বাহার অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে একটি ড্রাম্প ট্রাককে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং একজনকে কারাদণ্ড দেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পুনরায় উত্তোলন শুরু হয় বলে জানা গেছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। যেখানে উত্তোলন হচ্ছে তার ৪০০ মিটারের মধ্যে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবস্থিত। বালু তোলায় ব্যাপক নদী ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।’

ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম ও সদস্য সচিব শাহজাহান আলী জানান, বালু উত্তোলনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে অবৈধ উত্তোলন হচ্ছে—এটা সত্য এবং প্রতিকার জরুরি।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের এমপি আব্দুল গফুর বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। জামায়াতের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নয়। উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু তোলা নিয়ে গোলাগুলি

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বালু ব্যবসায়ীদের একাধিক অফিস ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও লভ্যাংশের ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বাহিরচর ইউনিয়নের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের বরাতে জানা যায়, একপক্ষ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে—এমন খবর পেয়ে অপর পক্ষ গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় ২৫-২৭ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। দুর্বৃত্তরা দুটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়, একটি ড্রাম্প ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে এবং কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

বালু ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, তার অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে। তার চাচাতো ভাই ফারুকের মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

অপর ব্যবসায়ী লিটন প্রামাণিক বলেন, তার অফিসও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘যে দল ক্ষমতায় আসে, সে দলই অবৈধ বালু উত্তোলন করে—এটাই বাস্তবতা।’

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, বিএনপির দুটি পক্ষ এবং জামায়াতে ইসলামীর নাম ভাঙিয়ে একটি গ্রুপ অবৈধ বালু উত্তোলনের চেষ্টা করছে। লভ্যাংশ ও ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা থাকলেও নদী-সংলগ্ন অন্যান্য প্রভাবশালী পক্ষের সঙ্গে বিরোধ থেকেই এ সহিংসতা হয়। অভিযানের সময় উত্তোলন বন্ধ থাকলেও পরে অদৃশ্য কারণে আবার বালু উত্তোলন শুরু হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার আগের দিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. গাজী আশিক বাহার অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে একটি ড্রাম্প ট্রাককে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং একজনকে কারাদণ্ড দেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পুনরায় উত্তোলন শুরু হয় বলে জানা গেছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। যেখানে উত্তোলন হচ্ছে তার ৪০০ মিটারের মধ্যে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবস্থিত। বালু তোলায় ব্যাপক নদী ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।’

ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম ও সদস্য সচিব শাহজাহান আলী জানান, বালু উত্তোলনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে অবৈধ উত্তোলন হচ্ছে—এটা সত্য এবং প্রতিকার জরুরি।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের এমপি আব্দুল গফুর বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। জামায়াতের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নয়। উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।