সৌদি আরবে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার দুই প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় হামির উদ্দিন (৫৭) এবং মক্কায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে পড়ে হৃদয় মিয়া (২২) নামে দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। গত বুধ ও বৃহস্পতিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত হামির উদ্দিন কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের ঘিলাকান্দি গ্রামের মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে, হৃদয় মিয়া একই উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্ব বাহেরচর গ্রামের জামাল মিয়ার একমাত্র সন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে সংসারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন হামির উদ্দিন। সেখানে তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। গত বৃহস্পতিবার রিয়াদে মসজিদে ইফতার শেষে নিজের আবাসে ফেরার পথে পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী লরি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার সহকর্মীরা টেলিফোনের মাধ্যমে বাড়িতে এই দুঃসংবাদটি জানান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
এদিকে, মক্কায় নিহত তরুণ প্রবাসী হৃদয় মিয়ার মামা জানান, পরিবারের অভাব দূর করতে মাত্র এক বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন হৃদয়। তিনি সেখানে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বুধবার সকালে একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদে রডের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে হৃদয়ের বাবা-মা এখন পাগলপ্রায়।
নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে কটিয়াদীর এই দুই গ্রামে এখন কেবলই আহাজারি আর কান্নার সুর। শোকাতুর স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়েছেন প্রতিবেশীরাও।
রিপোর্টারের নাম 





















