ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, দাম বাড়ার শঙ্কা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বর্তমানে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ রয়েছে এবং পাইপলাইনেও প্রচুর পণ্য রয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার সকালে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকা সিলেটে পৌঁছে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে আসন্ন রমজান মাসে যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সময় হাতে সময় কম থাকলেও স্বস্তির বিষয় হলো, বর্তমানে খাদ্যসামগ্রীর যে মজুত রয়েছে তা বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যথেষ্ট।’

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, গত কয়েক মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে যে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কাজ শুরু হয়েছে। রপ্তানি বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানো, নতুন নতুন পণ্য রপ্তানি তালিকায় যুক্ত করা এবং বিশ্ববাজারে বৈচিত্র্য আনাই এখন সময়ের দাবি। সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

সিলেটের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য হলো সিলেটে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আর এর জন্য বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। দেশি বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে সিলেটে বিনিয়োগে আগ্রহী হন, সেজন্য আমরা বিশেষ নীতিগত সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা করছি। অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, সিলেটের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্ব দরবারে আরও সুসংহত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে বর্তমান সরকার।

বিমানবন্দরে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আবেগপূর্ণ কণ্ঠে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের হাসিমুখ দেখে আমি অভিভূত। যে প্রত্যাশা নিয়ে আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে আমি বদ্ধপরিকর।’

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এ ছাড়া সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ জাতীয়তাবাদী দল ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হটলাইন চালু

বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, দাম বাড়ার শঙ্কা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:১৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বর্তমানে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ রয়েছে এবং পাইপলাইনেও প্রচুর পণ্য রয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার সকালে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকা সিলেটে পৌঁছে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে আসন্ন রমজান মাসে যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সময় হাতে সময় কম থাকলেও স্বস্তির বিষয় হলো, বর্তমানে খাদ্যসামগ্রীর যে মজুত রয়েছে তা বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যথেষ্ট।’

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, গত কয়েক মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে যে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কাজ শুরু হয়েছে। রপ্তানি বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানো, নতুন নতুন পণ্য রপ্তানি তালিকায় যুক্ত করা এবং বিশ্ববাজারে বৈচিত্র্য আনাই এখন সময়ের দাবি। সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

সিলেটের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য হলো সিলেটে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আর এর জন্য বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। দেশি বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে সিলেটে বিনিয়োগে আগ্রহী হন, সেজন্য আমরা বিশেষ নীতিগত সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা করছি। অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, সিলেটের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্ব দরবারে আরও সুসংহত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে বর্তমান সরকার।

বিমানবন্দরে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আবেগপূর্ণ কণ্ঠে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের হাসিমুখ দেখে আমি অভিভূত। যে প্রত্যাশা নিয়ে আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে আমি বদ্ধপরিকর।’

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এ ছাড়া সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ জাতীয়তাবাদী দল ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।