বগুড়ার শাজাহানপুরে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ইজিবাইক আরোহী এক গৃহবধূর মৃত্যু এবং তার দুই শিশুসন্তানসহ চারজন আহতের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক। দুর্ঘটনায় নিহত গৃহবধূর লাশ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই অবরোধে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার দ্বিতীয় বাইপাস বেতগাড়ি এলাকায় একটি দ্রুতগামী বাস পেছন থেকে একটি ইজিবাইককে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ইজিবাইক চালকসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে চামেলি খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি স্থানীয় জুয়েল মিয়ার স্ত্রী।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত চামেলির দুই বছরের শিশুসন্তান সোয়াদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির ডান পা বিচ্ছিন্ন করেছেন। এ ছাড়া নিহত গৃহবধূর আরেক কন্যাসন্তান নেহা এবং ইজিবাইক চালক সেলিম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গৃহবধূ চামেলির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বেতগাড়ি লিচুতলা বাইপাস মোড়ে নিহতের লাশ নিয়ে অবস্থান নেন। তারা ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক হাজার মানুষ এতে যোগ দেন। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীরা ওই মোড়ে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। সংসদ সদস্য জানান, দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তিনি জেলা প্রশাসক ও সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ ছাড়া স্থানীয় অন্য সংসদ সদস্যের সঙ্গেও তিনি এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন আহত শিশু সোয়াদের চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন এবং বিষয়টি দলের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বেতগাড়ি বাইপাস মোড়টি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যথাযথ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় এখানে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। দ্রুত ফ্লাইওভার নির্মাণ বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রিপোর্টারের নাম 





















