ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

ভুল চিকিৎসায় গর্ভবতী নারীর মৃত্যু: বগুড়ায় হাসপাতাল ভাঙচুর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। ছয় মাসের এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর পর উত্তেজিত স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর ও মারধর করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার প্রভাতী হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত জবা বালা রানী (৩০), কাহালু উপজেলার শিবাকলমা ইউনিয়নের শিপন চন্দ্রের স্ত্রী। তিনি ছয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন। নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই জবার মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, বুধবার তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে জাবাকে প্রভাতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে এবং অ্যাবরশন (গর্ভপাত) করাতে হবে। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অ্যাবরশনের জন্য ইনজেকশন দেওয়ার পর জবার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে।

পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জবার মৃত্যু হয়েছে।

এরপর নিহতের স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে প্রভাতী হাসপাতালে ফিরে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হাসপাতালে ভাঙচুর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বামী শিপন চন্দ্র, খালা শান্তি রানী এবং মামা শ্রী মাখন চন্দ্র সরকার দাবি করেন, মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলাও চালায়।

তবে, প্রভাতী হাসপাতালের ম্যানেজার রুবেল ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন, রোগীর স্বজনেরা হঠাৎ হাসপাতালে ঢুকে ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধর করেছেন।

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হটলাইন চালু

ভুল চিকিৎসায় গর্ভবতী নারীর মৃত্যু: বগুড়ায় হাসপাতাল ভাঙচুর

আপডেট সময় : ০১:১৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বগুড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। ছয় মাসের এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর পর উত্তেজিত স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর ও মারধর করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার প্রভাতী হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত জবা বালা রানী (৩০), কাহালু উপজেলার শিবাকলমা ইউনিয়নের শিপন চন্দ্রের স্ত্রী। তিনি ছয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন। নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই জবার মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, বুধবার তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে জাবাকে প্রভাতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে এবং অ্যাবরশন (গর্ভপাত) করাতে হবে। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অ্যাবরশনের জন্য ইনজেকশন দেওয়ার পর জবার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে।

পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জবার মৃত্যু হয়েছে।

এরপর নিহতের স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে প্রভাতী হাসপাতালে ফিরে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হাসপাতালে ভাঙচুর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বামী শিপন চন্দ্র, খালা শান্তি রানী এবং মামা শ্রী মাখন চন্দ্র সরকার দাবি করেন, মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলাও চালায়।

তবে, প্রভাতী হাসপাতালের ম্যানেজার রুবেল ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন, রোগীর স্বজনেরা হঠাৎ হাসপাতালে ঢুকে ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধর করেছেন।

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।