ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপির অর্ধশতাধিক নেত্রীর মধ্যে চলছে মনোনয়ন যুদ্ধ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরগরম আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষ থেকে অর্ধশতাধিক নারী নেত্রী এই আসনগুলোর জন্য নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিতে তৎপর। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানে অবস্থিত দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নেত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২৯৬টি আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে। কমিশন সূত্র অনুযায়ী, এই গেজেট অনুসারে বিএনপি জোট প্রায় ৩৫টি সংরক্ষিত আসন এবং জামায়াত জোট প্রায় ১৩টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে। অধিবেশন শুরু হওয়ার পর পরই সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। এরপরই কমিশন এই আসনগুলোর জন্য তফসিল ঘোষণা করবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সংসদ সচিবালয় থেকে তালিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে তারা তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি শুরু করবে এবং পরিকল্পনা রয়েছে আসন্ন ঈদের আগেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করার।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দলটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা, কারাবরণকারী, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী এবং তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী নেত্রীদের এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ এবং সাবেক ছাত্রনেত্রীদেরও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। এছাড়াও, দেশের যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেননি, সেসব এলাকার নারী নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে।

দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শুধুমাত্র সুপারিশের ভিত্তিতে নয়, বরং মাঠপর্যায়ে তাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে একটি দীর্ঘ তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে তা সংক্ষিপ্ত করা হবে। সবশেষে, সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে, দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের অনুমোদন ছাড়া কোনো তালিকা চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে না।

সংরক্ষিত আসনে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন যারা:

সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে বিএনপির অনেক নারী নেত্রীই রয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: মহিলা দলের সভাপতি এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আকতার, সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, সাবেক সংসদ সদস্য আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা এবং রেহেনা আকতার রানু।

আলোচনায় থাকা আরও কয়েকজন উল্লেখযোগ্য নেত্রীর মধ্যে রয়েছেন: ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন।

সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে আরও রয়েছেন: কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন এবং কনক চাঁপা, এবং চিত্রনায়িকা মৌসুমী।

এছাড়াও, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, সানজিদা ইসলাম তুলি, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, নাদিয়া পাঠান পাপন, শাহিনুর সাগর, সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসমিন আরা হক, চেমন আরা বেগম, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম এবং ফরিদা ইয়াসমিনও এই তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম বিপর্যয়: নেপথ্যে শত কোটির দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের জাল

সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপির অর্ধশতাধিক নেত্রীর মধ্যে চলছে মনোনয়ন যুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৬:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরগরম আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষ থেকে অর্ধশতাধিক নারী নেত্রী এই আসনগুলোর জন্য নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিতে তৎপর। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানে অবস্থিত দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নেত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২৯৬টি আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে। কমিশন সূত্র অনুযায়ী, এই গেজেট অনুসারে বিএনপি জোট প্রায় ৩৫টি সংরক্ষিত আসন এবং জামায়াত জোট প্রায় ১৩টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে। অধিবেশন শুরু হওয়ার পর পরই সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। এরপরই কমিশন এই আসনগুলোর জন্য তফসিল ঘোষণা করবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সংসদ সচিবালয় থেকে তালিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে তারা তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি শুরু করবে এবং পরিকল্পনা রয়েছে আসন্ন ঈদের আগেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করার।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দলটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা, কারাবরণকারী, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী এবং তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী নেত্রীদের এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ এবং সাবেক ছাত্রনেত্রীদেরও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। এছাড়াও, দেশের যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেননি, সেসব এলাকার নারী নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে।

দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শুধুমাত্র সুপারিশের ভিত্তিতে নয়, বরং মাঠপর্যায়ে তাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে একটি দীর্ঘ তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে তা সংক্ষিপ্ত করা হবে। সবশেষে, সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে, দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের অনুমোদন ছাড়া কোনো তালিকা চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে না।

সংরক্ষিত আসনে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন যারা:

সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে বিএনপির অনেক নারী নেত্রীই রয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: মহিলা দলের সভাপতি এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আকতার, সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, সাবেক সংসদ সদস্য আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা এবং রেহেনা আকতার রানু।

আলোচনায় থাকা আরও কয়েকজন উল্লেখযোগ্য নেত্রীর মধ্যে রয়েছেন: ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন।

সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে আরও রয়েছেন: কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন এবং কনক চাঁপা, এবং চিত্রনায়িকা মৌসুমী।

এছাড়াও, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, সানজিদা ইসলাম তুলি, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, নাদিয়া পাঠান পাপন, শাহিনুর সাগর, সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসমিন আরা হক, চেমন আরা বেগম, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম এবং ফরিদা ইয়াসমিনও এই তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন।