ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

পলাতক আসামিদের দেশে এনে শাস্তির দাবি: আখতার হোসেনের আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিদেশে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের শাস্তি কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, এটি নির্বাচিত সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং প্রসিকিউশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি জানান। আখতার হোসেন বলেন, “বিএনপি সরকারের কাছে আমাদের আহ্বান, শেখ হাসিনাসহ যারা ফাঁসির আসামি এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তারা বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির বিধান কার্যকর করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই মন্থর না হয় বা বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা উচিত। যেসব ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি, সেগুলোর আসামিদের আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মধ্য দিয়েই এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আদেশের একটি অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিয়েছেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নেননি। এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয় যে, বিএনপি তাদের ক্ষমতা গ্রহণের জন্য সহায়ক বিষয়গুলোকেই কেবল গ্রহণ করছে এবং যে বিষয়গুলো তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে, সেগুলোকে এড়িয়ে যাচ্ছে।

আখতার হোসেন উল্লেখ করেন যে, বিএনপি সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সংস্কার কমিশনেও তাদের একই অবস্থান ছিল। এমনকি ছাত্রদল তাদের অফিশিয়াল পেজে ‘না’ ভোটের প্রচারেও অংশ নিয়েছিল। বুদ্ধিজীবী মহলেও ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে জনগণের চাপের মুখে তারেক রহমান রংপুরে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিএনপি যদি এত বড় জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করে, তবে জনচাপের মুখে তারা তা করতে পারবে না। জল ঘোলা করে জনচাপের মুখে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে বাধ্য হবে।

দুটি মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে উল্লেখ করে আখতার হোসেন জানান, সেই বিষয়ে খোঁজ নিতেই তিনি ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন। মামলা দুটির মধ্যে একটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত সহিংসতা এবং অপরটি ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম বিপর্যয়: নেপথ্যে শত কোটির দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের জাল

পলাতক আসামিদের দেশে এনে শাস্তির দাবি: আখতার হোসেনের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিদেশে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের শাস্তি কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, এটি নির্বাচিত সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং প্রসিকিউশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি জানান। আখতার হোসেন বলেন, “বিএনপি সরকারের কাছে আমাদের আহ্বান, শেখ হাসিনাসহ যারা ফাঁসির আসামি এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তারা বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির বিধান কার্যকর করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই মন্থর না হয় বা বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা উচিত। যেসব ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি, সেগুলোর আসামিদের আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মধ্য দিয়েই এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আদেশের একটি অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিয়েছেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নেননি। এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয় যে, বিএনপি তাদের ক্ষমতা গ্রহণের জন্য সহায়ক বিষয়গুলোকেই কেবল গ্রহণ করছে এবং যে বিষয়গুলো তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে, সেগুলোকে এড়িয়ে যাচ্ছে।

আখতার হোসেন উল্লেখ করেন যে, বিএনপি সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সংস্কার কমিশনেও তাদের একই অবস্থান ছিল। এমনকি ছাত্রদল তাদের অফিশিয়াল পেজে ‘না’ ভোটের প্রচারেও অংশ নিয়েছিল। বুদ্ধিজীবী মহলেও ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে জনগণের চাপের মুখে তারেক রহমান রংপুরে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিএনপি যদি এত বড় জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করে, তবে জনচাপের মুখে তারা তা করতে পারবে না। জল ঘোলা করে জনচাপের মুখে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে বাধ্য হবে।

দুটি মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে উল্লেখ করে আখতার হোসেন জানান, সেই বিষয়ে খোঁজ নিতেই তিনি ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন। মামলা দুটির মধ্যে একটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত সহিংসতা এবং অপরটি ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত।