নতুন সরকারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে জামায়াতে ইসলামী দেশের উন্নয়নে ন্যায়বিচার ও মানবিক সমাজ গঠনের পথে সর্বাত্মক সমর্থনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “দেশের অগ্রগতিতে আমরা সহযোগিতা করতে চাই। এই দায়িত্ব সরকারের। আমরা দোয়া করি যেন আমরা ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে এবং আল্লাহর বিধানের পক্ষে থাকতে পারি।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের রাজনীতি মানবতার জন্য।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১৫ সংসদীয় এলাকা আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা শুধরিয়ে নিলে আমরা আন্তরিকভাবে দোয়া করব এবং সকল ভালো কাজে সহযোগিতা করব। অন্যথায়, সংসদে এবং বাইরে যেখানে প্রয়োজন, আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারি ও বিরোধী দল সবাই মিলে দেশের জন্য কাজ করবে, তবে এর প্রধান দায়িত্ব সরকারি দলের।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ হিসেবে তিনি নবনির্বাচিত সরকারকে আল্লাহর বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, এই সম্মান প্রদর্শন তাদের নিজেদেরও সম্মানিত করবে, অন্যথায় দেশ ও তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কেবলমাত্র দলীয় পরিচয়ের কারণে যেন কোনো নাগরিক জুলুমের শিকার না হন। এমন ঘটনা ঘটলে তা ইতিহাসকে অশ্রদ্ধা করার শামিল হবে। জামায়াত আশা করে, সরকার আল্লাহর সন্তোষজনক কাজ করবে, অসন্তোষজনক কাজ থেকে বিরত থাকবে এবং দেশবাসীকে রক্ষা করার চেষ্টা করবে।
এ সময় একটি টেলিভিশন থেকে চার সাংবাদিককে চাকরিচ্যুতির বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত আমির এটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর “নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ” বলে অভিহিত করেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান যেন তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সাংবাদিকদের পুনর্বহাল করেন। অন্যথায়, তারা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার জন্য দায়ী থাকবেন। তিনি এই ধরনের কাজের তীব্র নিন্দা জানান এবং এর সঙ্গে কোনোভাবেই সহমত পোষণ করেন না বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, এখন থেকে কোনো সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো সাধারণ কর্মীর ওপরও যেন এমন আঘাত না আসে। যদি আসে, তবে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তারা কোনো অবস্থাতেই এটি মেনে নেবে না। তাদের অঙ্গীকার ছিল একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং একটি স্বাধীন গণমাধ্যম, এবং তারা এ দুটিকে পূর্ণ স্বাধীনতায় দেখতে চায়।
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।
রিপোর্টারের নাম 

























