ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

এনসিপি’র হুঁশিয়ারি: ‘গণমাধ্যম দমনে পুরনো স্বৈরাচারের পথ ধরলে একই পরিণতি হবে’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্প্রতি এখন টেলিভিশনের সাংবাদিকদের শোকজ এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহবুব মোর্শেদকে হেনস্তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে দলটি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন স্বৈরাচারকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এনসিপি’র মিডিয়া সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ ও হুঁশিয়ারি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের নতুন মেয়াদের শুরুতেই ঘটা এই দুটি ঘটনা আগামী দিনে মত প্রকাশের স্বাধীনতার চিত্র কেমন হবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

এনসিপি উল্লেখ করে, গণভোট ও সংস্কারের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মতামত প্রকাশ করায় এখন টিভির চার সাংবাদিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদকে পদ থেকে সরানোর জন্য এক ধরনের ‘মব’ বা জনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এনসিপি মনে করে, নতুন সরকার গঠনের মাত্র একদিনের মাথায় এমন ঘটনাগুলো ভবিষ্যতের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার করুণ চিত্রই তুলে ধরে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমের মালিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং উচ্চপর্যায়ে সাংবাদিক নামধারী কিছু ‘দলদাস’ (দলীয় অনুগত) নিয়োগের মাধ্যমে গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল নেওয়া হয়েছে। যেসব গণমাধ্যমে এমন ‘দলদাস’দের বসানো হয়েছে, ইতোমধ্যে সেগুলোর গণবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন টিভির চার সাংবাদিককে সংস্কারের পক্ষে এবং দলীয় লেজুড়বৃত্তিক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় শোকজ করা হয়েছে।

বাসসের এমডিকে অপসারণের জন্য ‘মব’ সৃষ্টির ঘটনা প্রমাণ করে যে, ফ্যাসিবাদী আমলে সংস্থাটি যেভাবে সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের মতো ভূমিকা পালন করেছে, বর্তমান সরকারের আমলেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। এনসিপি মন্তব্য করে, নতুন সরকার গঠনের পরপরই সাংবাদিকদের কোণঠাসা করার এই প্রয়াস থেকে বোঝা যায়, আগামী দিনে সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কতটা খড়্গহস্ত হবে।

এনসিপি দৃঢ়ভাবে জানায়, গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সাংবাদিকদের অবিলম্বে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা এবং বাসসের এমডিকে স্বপদে বহাল রেখে মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে দলটি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম বিপর্যয়: নেপথ্যে শত কোটির দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের জাল

এনসিপি’র হুঁশিয়ারি: ‘গণমাধ্যম দমনে পুরনো স্বৈরাচারের পথ ধরলে একই পরিণতি হবে’

আপডেট সময় : ০২:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্প্রতি এখন টেলিভিশনের সাংবাদিকদের শোকজ এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহবুব মোর্শেদকে হেনস্তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে দলটি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন স্বৈরাচারকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এনসিপি’র মিডিয়া সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ ও হুঁশিয়ারি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের নতুন মেয়াদের শুরুতেই ঘটা এই দুটি ঘটনা আগামী দিনে মত প্রকাশের স্বাধীনতার চিত্র কেমন হবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

এনসিপি উল্লেখ করে, গণভোট ও সংস্কারের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মতামত প্রকাশ করায় এখন টিভির চার সাংবাদিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদকে পদ থেকে সরানোর জন্য এক ধরনের ‘মব’ বা জনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এনসিপি মনে করে, নতুন সরকার গঠনের মাত্র একদিনের মাথায় এমন ঘটনাগুলো ভবিষ্যতের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার করুণ চিত্রই তুলে ধরে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমের মালিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং উচ্চপর্যায়ে সাংবাদিক নামধারী কিছু ‘দলদাস’ (দলীয় অনুগত) নিয়োগের মাধ্যমে গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল নেওয়া হয়েছে। যেসব গণমাধ্যমে এমন ‘দলদাস’দের বসানো হয়েছে, ইতোমধ্যে সেগুলোর গণবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন টিভির চার সাংবাদিককে সংস্কারের পক্ষে এবং দলীয় লেজুড়বৃত্তিক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় শোকজ করা হয়েছে।

বাসসের এমডিকে অপসারণের জন্য ‘মব’ সৃষ্টির ঘটনা প্রমাণ করে যে, ফ্যাসিবাদী আমলে সংস্থাটি যেভাবে সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের মতো ভূমিকা পালন করেছে, বর্তমান সরকারের আমলেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। এনসিপি মন্তব্য করে, নতুন সরকার গঠনের পরপরই সাংবাদিকদের কোণঠাসা করার এই প্রয়াস থেকে বোঝা যায়, আগামী দিনে সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কতটা খড়্গহস্ত হবে।

এনসিপি দৃঢ়ভাবে জানায়, গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সাংবাদিকদের অবিলম্বে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা এবং বাসসের এমডিকে স্বপদে বহাল রেখে মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে দলটি।