ঢাকা ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লা-৪ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ: ফলাফল বাতিল ও পুনঃনির্বাচনের দাবি গণঅধিকার প্রার্থীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-০৪ (দেবিদ্বার) আসনে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন। নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির দাবি করে তিনি ফলাফল বাতিল এবং পুনরায় ভোটগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ ও দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ প্রতীকে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন নানা অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকরা ভোটের আগের দিন সুবিল ও মোহনপুর ইউনিয়নে অবৈধভাবে অর্থ বিতরণকালে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জসিম উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অনুসারীরা বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াতের ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেয়। গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের পদ্মকোট গ্রামে অস্ত্রসহ সোহেল রানা ও আলমগীরসহ আটজন আটক হওয়ার ঘটনাও তিনি তুলে ধরেন। এসব ঘটনার পরও তিনি নির্বাচন চালিয়ে যান বলে জানান।

গণঅধিকার পরিষদের এই প্রার্থী অভিযোগ করেন, ভোটের দিন তাঁর এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্যমতে, কিছু প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে প্রতি কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক ব্যালটে আগেই সিল মেরে রাখা হয় এবং ভোট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে সেগুলো ব্যালট বাক্সে ঢোকানো হয়। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এমনকি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নিজ কেন্দ্রে তাঁকে পরাজিত দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন।

জসিম উদ্দিন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নিজ কেন্দ্র গোপালনগরে তাঁর কোনো ভোটই দেখানো হয়নি, যা ‘হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য’। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে তাঁর সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করা হয়েছে এবং নগদ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে। অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক, অবৈধ অর্থ বিতরণের ভিডিও ভাইরাল, এজেন্ট বহিষ্কার ও ব্যালট কারচুপিসহ নানা অভিযোগ নির্বাচনের দিন প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মো. জসিম উদ্দিন দেশবাসী ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই প্রহসনের নির্বাচন, সূক্ষ্ম ভোট ডাকাতির নির্বাচন এবং সন্ত্রাস ও কালোটাকায় প্রভাবিত নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভয়ভীতিহীন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান লিটন, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুব অধিকার পরিষদের ১নং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল হোসেন বেগ, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সদস্য আবু তাহের মজুমদার, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোল্লাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লা-৪ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ: ফলাফল বাতিল ও পুনঃনির্বাচনের দাবি গণঅধিকার প্রার্থীর

আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-০৪ (দেবিদ্বার) আসনে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন। নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির দাবি করে তিনি ফলাফল বাতিল এবং পুনরায় ভোটগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ ও দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ প্রতীকে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন নানা অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকরা ভোটের আগের দিন সুবিল ও মোহনপুর ইউনিয়নে অবৈধভাবে অর্থ বিতরণকালে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জসিম উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অনুসারীরা বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াতের ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেয়। গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের পদ্মকোট গ্রামে অস্ত্রসহ সোহেল রানা ও আলমগীরসহ আটজন আটক হওয়ার ঘটনাও তিনি তুলে ধরেন। এসব ঘটনার পরও তিনি নির্বাচন চালিয়ে যান বলে জানান।

গণঅধিকার পরিষদের এই প্রার্থী অভিযোগ করেন, ভোটের দিন তাঁর এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্যমতে, কিছু প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে প্রতি কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক ব্যালটে আগেই সিল মেরে রাখা হয় এবং ভোট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে সেগুলো ব্যালট বাক্সে ঢোকানো হয়। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এমনকি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নিজ কেন্দ্রে তাঁকে পরাজিত দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন।

জসিম উদ্দিন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নিজ কেন্দ্র গোপালনগরে তাঁর কোনো ভোটই দেখানো হয়নি, যা ‘হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য’। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে তাঁর সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করা হয়েছে এবং নগদ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে। অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক, অবৈধ অর্থ বিতরণের ভিডিও ভাইরাল, এজেন্ট বহিষ্কার ও ব্যালট কারচুপিসহ নানা অভিযোগ নির্বাচনের দিন প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মো. জসিম উদ্দিন দেশবাসী ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই প্রহসনের নির্বাচন, সূক্ষ্ম ভোট ডাকাতির নির্বাচন এবং সন্ত্রাস ও কালোটাকায় প্রভাবিত নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভয়ভীতিহীন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান লিটন, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুব অধিকার পরিষদের ১নং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল হোসেন বেগ, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সদস্য আবু তাহের মজুমদার, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোল্লাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।