ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

চাঁদপুরের কচুয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা: দুজন গ্রেপ্তার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের কচুয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে শাকির (৪২) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার দোয়াটি গ্রামের বড় ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বিকাশ চন্দ্র সরকারের মাছের প্রজেক্ট এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে দোয়াটি গ্রামের বড় ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বিকাশ চন্দ্র সরকারের মুরগির প্রজেক্টের পশ্চিম পাড়ে মাছ পাহারা ঘরে শাকিরকে ডেকে নেন বিকাশ ও তার কর্মচারী সোহরাব মিয়া। সেখানে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে শাকিরকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার মাথা, দুই হাত, দুই পা এবং চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শাকির স্থানীয় পালাখাল ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন। তিনি দোয়াটি হাজি বাড়ির দক্ষিণ পাশে তার প্রজেক্টে মাছ চাষ করতেন। এই মাছ চাষাবাদকে কেন্দ্র করে দোয়াটি গ্রামের কামার বাড়ির বিকাশ চন্দ্র সরকারসহ আসামিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে।

নিহত শাকিরের মা সাহেরা বেগম ও তার মেয়ে তামান্না আক্তার জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির একটি কর্মসূচিতে যাবেন বলে শাকির বাড়ি থেকে বের হন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা জানতে পারেন যে বিকাশ চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন শাকিরকে বেধড়ক মারধর করে ফেলে গেছে। তাদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাকিরকে হত্যা করা হয়েছে।

কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা শনিবার বিকেলে কচুয়া থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ নিহত শাকিরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠায় এবং পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি বিকাশ চন্দ্র সরকার ও সোহরাব মিয়াকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরের কচুয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা: দুজন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৯:২৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুরের কচুয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে শাকির (৪২) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার দোয়াটি গ্রামের বড় ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বিকাশ চন্দ্র সরকারের মাছের প্রজেক্ট এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে দোয়াটি গ্রামের বড় ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বিকাশ চন্দ্র সরকারের মুরগির প্রজেক্টের পশ্চিম পাড়ে মাছ পাহারা ঘরে শাকিরকে ডেকে নেন বিকাশ ও তার কর্মচারী সোহরাব মিয়া। সেখানে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে শাকিরকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার মাথা, দুই হাত, দুই পা এবং চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শাকির স্থানীয় পালাখাল ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন। তিনি দোয়াটি হাজি বাড়ির দক্ষিণ পাশে তার প্রজেক্টে মাছ চাষ করতেন। এই মাছ চাষাবাদকে কেন্দ্র করে দোয়াটি গ্রামের কামার বাড়ির বিকাশ চন্দ্র সরকারসহ আসামিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে।

নিহত শাকিরের মা সাহেরা বেগম ও তার মেয়ে তামান্না আক্তার জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির একটি কর্মসূচিতে যাবেন বলে শাকির বাড়ি থেকে বের হন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা জানতে পারেন যে বিকাশ চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন শাকিরকে বেধড়ক মারধর করে ফেলে গেছে। তাদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাকিরকে হত্যা করা হয়েছে।

কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা শনিবার বিকেলে কচুয়া থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ নিহত শাকিরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠায় এবং পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি বিকাশ চন্দ্র সরকার ও সোহরাব মিয়াকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।