সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ছয় প্রার্থীর মধ্যে চারজনই তাদের নির্বাচনী জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ছাড়া অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এই তালিকায় রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী তার আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ (১২.৫ শতাংশ) পেতে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে থাকে। গাইবান্ধা-৪ আসনে মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০৫টি। সেই হিসাবে, জামানত রক্ষায় ন্যূনতম ৩৫ হাজার ৬৯০টি ভোট প্রাপ্তি অত্যাবশ্যক ছিল। এই নির্ধারিত সীমা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন:
জাতীয় পার্টি মনোনীত কাজী মশিউর রহমান, যিনি ২ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ আকন্দ, যার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ৫৫২টি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, যিনি ১ হাজার ৩৭৩ ভোট সংগ্রহ করেছেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি-এর আতোয়ারুল ইসলাম নান্নু, যিনি মাত্র ৩৬৮ ভোট পেয়েছেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা এবং ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭৪ জন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, মোট ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৯৬টি ভোট প্রদত্ত হয়, যার মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০৫টি এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ৭ হাজার ৯১টি। এ আসনে ভোটদানের হার ছিল ৬২.৯৪ শতাংশ।
নির্বাচনী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর বাইরে অন্য প্রার্থীরা ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট টানতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি পরিচিত চিত্র।
রিপোর্টারের নাম 
























