একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড় জেলার দুইটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনই তাদের নির্বাচনী জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে পঞ্চগড়-১ আসনে ৫ জন এবং পঞ্চগড়-২ আসনে ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ায় এই পরিণতি বরণ করেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকার মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়। এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি প্রার্থীকে কমিশনের অনুকূলে ৫০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর বিধি অনুযায়ী, পঞ্চগড়-১ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬৭। এই আসনে জামানত রক্ষা করতে হলে একজন প্রার্থীকে ন্যূনতম ৪৪ হাজার ৮৭০ ভোট পেতে হতো। কিন্তু এই সংখ্যক ভোট অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন ৫ জন প্রার্থী। তারা হলেন: বাংলাদেশ জাসদের নাজমুল হক প্রধান (মোটরগাড়ি প্রতীক) ৩ হাজার ৯ ভোট, বিএসপির আব্দুল ওয়াদুদ বাদশা (একতারা প্রতীক) ১ হাজার ১৮ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ফেরদাউস আলম (আনারস প্রতীক) ৬৮৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মাহাফুজার রহমান (ট্রাক প্রতীক) ৮৩৬ ভোট, এবং বিএনএফ’র সিরাজুল ইসলাম ২৬১ ভোট।
একইভাবে, পঞ্চগড়-২ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২২ হাজার ৩০৭। এই আসনে জামানত টিকিয়ে রাখতে একজন প্রার্থীর জন্য ৪০ হাজার ২৮৮ ভোট প্রাপ্তি অত্যাবশ্যক ছিল। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ৬ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন: স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন সুমন (ঘোড়া প্রতীক) ১ হাজার ৮৫৪ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আশরাফুল ইসলাম (কাস্তে প্রতীক) ৯৩৫ ভোট, বাংলাদেশ জাসদের এমরান আল আমিন (মোটরগাড়ি প্রতীক) ৯৫৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কামরুল হাসান প্রধান (হাতপাখা প্রতীক) ৪ হাজার ৩৯১ ভোট, বিএসপির দেলোয়ার হোসেন (একতারা প্রতীক) ১ হাজার ৩৫২ ভোট এবং জাতীয় পার্টির লুৎফর রহমান রিপন (লাঙ্গল প্রতীক) ২ হাজার ১৫২ ভোট। নির্বাচনী ফলাফলে এই প্রার্থীরা ভোটারদের আস্থার এক-অষ্টমাংশও অর্জন করতে পারেননি, যার ফলস্বরূপ তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























