ফেনী জেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ফুলগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা, দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এক দাঁড়িপাল্লা সমর্থকের ওপর হামলার খবর শুনে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ফুলগাজী উপজেলা কৃষক দলের এক নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র এবং অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট বাজার এলাকায় জামায়াত-সমর্থিত কয়েকজন ব্যবসায়ীর অন্তত পাঁচটি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা এই হামলায় জড়িত। এ ঘটনার পরপরই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হলে দলীয়ভাবে তদন্ত করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মুন্সিরহাট ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সুমনকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেলে ফুলগাজী উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. আবু আহমেদ আবু ও সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন রিয়াজ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. সুমনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মো. সুমন (৪৫), হেলাল (৪২), বেলাল (৪৫) ও মো. ইলিয়াস (৪২)-এর নাম উল্লেখ করে ১০-১২ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একই দিনে দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনীয়া বাজারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থক জয়নাল আবেদীন দুলালের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। যুবদল পরিচয়ধারী কয়েকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। আহত দুলাল হীরাপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, ছেলের ওপর হামলার খবর শুনে পরদিন শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুলালের মা রৌশন আরা বেগম স্ট্রোক করে মারা যান বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এ ঘটনায় উত্তর জায়লস্কর গ্রামের অহিদুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ হাসানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অংশ হিসেবে ছাগলনাইয়া পৌরসভার পূর্ব ছাগলনাইয়া ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতি নুরুজ্জামানের তিনটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ছাগলনাইয়া পৌর জামায়াতের আমির মুফতি মাওলানা মির্জা আবদুল হান্নান। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























