ফেনী সদর উপজেলায় স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ায় এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার তার স্ত্রী বিবি জহুরাকে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ তালাক দিয়েছেন। এই ঘটনার পর তিন সন্তানকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন জহুরা।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কাওসার তার স্ত্রী জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। তবে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে উৎসাহী জহুরা স্বামীর নিষেধ অমান্য করে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির পাশের লোকজনের মুখে স্ত্রীর ভোট দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন কাওসার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জহুরাকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেন এবং তাকে ঘরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা কাওসারকে আটক করে উত্তম-মধ্যম দেয়। জনসমাগম বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে কাওসার কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ধর্মপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকাসহ পুরো উপজেলায় এই নজিরবিহীন ঘটনা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ভোটাধিকার প্রয়োগের মতো একটি মৌলিক অধিকারের কারণে এমন তালাকের ঘটনায় অনেকেই হতবাক ও ক্ষুব্ধ।
রিপোর্টারের নাম 





















