ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া জেলার সাতটি সংসদীয় আসনেই নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর মধ্যে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে তারেক রহমান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৮ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা তার দলের জন্য একটি বিশাল বিজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। এ আসনে তারেক রহমান ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান তার কার্যালয়ে এই ফলাফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করেন। আসনটির ১৫০টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন, যার মধ্যে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯টি বৈধ ভোট কাস্টিং হয়েছে। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মামুনুর রশিদ হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ৫০৮ ভোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) দিলরুবা নূরী মই প্রতীকে ৭৯৫ ভোট এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি ২৭৬ ভোট পেয়েছেন। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
বগুড়ার বাকি ৬টি সংসদীয় আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তাদের প্রাপ্ত ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট নিম্নরূপ:
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা): বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহাবুদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯৩৩ ভোট।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ): এই আসনে বিএনপি প্রার্থী মীর শাহে আলম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৪৩২ ভোট।
বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি): বিএনপি প্রার্থী আবদুল মহিত তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৬৭ ভোট।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম): বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৯১ ভোট।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট): বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯৬ ভোট।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর): এই আসনে বিএনপি প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮ ভোট।
রিপোর্টারের নাম 























