ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

বরিশালে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, তবু ভোটারদের মনে শঙ্কার কালো মেঘ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আজ, বৃহস্পতিবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের ন্যায় বরিশালের প্রতিটি উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবুও, প্রার্থী ও ভোটারদের মনে শঙ্কার মেঘ কাটছে না।

নির্বাচনকে ঘিরে বরিশালজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্যকে মাঠে নামানো হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও র‌্যাব – এই সকল বাহিনীর সমন্বয়ে একটি সুসংহত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হল ভোটকেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও টহল দিচ্ছে।

জেলা পুলিশের অধীনে সাধারণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে দুজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে তিনজন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। জেলায় মোট এক হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৯৯টি মোবাইল টিম এবং ১২টি স্ট্রাইকিং টিম নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রতিটি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে পেট্রোল টিম নির্বাচনী এলাকার উপর নজরদারি রাখছে। এছাড়া, ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকেও ছয়টি বিশেষ পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।

নদীবেষ্টিত বরিশাল অঞ্চলের জলপথেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের দেড় শতাধিক সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। নদী এলাকার আটটি ভোট কেন্দ্রের সুরক্ষায় নৌপুলিশও তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও, সকল ভোটকেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও, জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী ও ভোটারদের মনে এখনো শঙ্কা রয়ে গেছে। নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এবং ভোট দেওয়া নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

নির্বাচনী প্রচার বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বরিশালের বিভিন্ন আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টি একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করছে। বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, এবং পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করার খবরও পাওয়া গেছে।

গত মঙ্গলবার, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

একইভাবে, বরিশাল-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর নির্বাচনি প্রধান এজেন্ট সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াত কর্মীদের উপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন। তিনিও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

গতকাল বুধবার, বরিশাল-৬ আসনেও জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতা, অসহযোগিতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে, তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লার কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টদের উপর হামলার অভিযোগ এনেছেন।

বরিশাল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সোবহান অভিযোগ করেছেন যে, একটি দলের নেতাকর্মীরা তার কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এই বিষয়ে, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ জানিয়েছেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন। প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দেবে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

বরিশালে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, তবু ভোটারদের মনে শঙ্কার কালো মেঘ

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ, বৃহস্পতিবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের ন্যায় বরিশালের প্রতিটি উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবুও, প্রার্থী ও ভোটারদের মনে শঙ্কার মেঘ কাটছে না।

নির্বাচনকে ঘিরে বরিশালজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্যকে মাঠে নামানো হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও র‌্যাব – এই সকল বাহিনীর সমন্বয়ে একটি সুসংহত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হল ভোটকেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও টহল দিচ্ছে।

জেলা পুলিশের অধীনে সাধারণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে দুজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে তিনজন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। জেলায় মোট এক হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৯৯টি মোবাইল টিম এবং ১২টি স্ট্রাইকিং টিম নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রতিটি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে পেট্রোল টিম নির্বাচনী এলাকার উপর নজরদারি রাখছে। এছাড়া, ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকেও ছয়টি বিশেষ পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।

নদীবেষ্টিত বরিশাল অঞ্চলের জলপথেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের দেড় শতাধিক সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। নদী এলাকার আটটি ভোট কেন্দ্রের সুরক্ষায় নৌপুলিশও তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও, সকল ভোটকেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও, জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী ও ভোটারদের মনে এখনো শঙ্কা রয়ে গেছে। নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এবং ভোট দেওয়া নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

নির্বাচনী প্রচার বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বরিশালের বিভিন্ন আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টি একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করছে। বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, এবং পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করার খবরও পাওয়া গেছে।

গত মঙ্গলবার, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

একইভাবে, বরিশাল-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর নির্বাচনি প্রধান এজেন্ট সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াত কর্মীদের উপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন। তিনিও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

গতকাল বুধবার, বরিশাল-৬ আসনেও জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতা, অসহযোগিতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে, তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লার কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টদের উপর হামলার অভিযোগ এনেছেন।

বরিশাল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সোবহান অভিযোগ করেছেন যে, একটি দলের নেতাকর্মীরা তার কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এই বিষয়ে, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ জানিয়েছেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন। প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দেবে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।