ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও মার্কিন সেনাদের রক্ষা: ইরানে আগাম হামলার কারণ জানালো যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরান আক্রমণের সুনিশ্চিত পরিকল্পনা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সেনাদের ওপর সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে আগাম বা ‘প্রি-এম্পটিভ’ হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে। সম্প্রতি এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যা ওয়াশিংটনের আকস্মিক এই যুদ্ধে জড়ানোর নতুন ব্যাখ্যা হিসেবে সামনে এসেছে।

মার্কো রুবিও তার ব্যাখ্যায় আরও বলেন, যখন ইসরায়েল তাদের আত্মরক্ষায় হামলার বিষয়ে অনড় ছিল, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে ইরান যেকোনো আক্রমণকারীর পাশাপাশি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানবে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনাদের সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যেই হোয়াইট হাউস তেহরান হামলা করার আগেই তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে, এই নতুন ব্যাখ্যা প্রকাশ হওয়ার পর মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের পর কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকানরা যেখানে প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপকে ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ হিসেবে সমর্থন করছেন, সেখানে ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে প্রেসিডেন্টের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া। অন্যদিকে, সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই সংঘাতকে ‘ট্রাম্পের যুদ্ধ’ এবং ‘কৌশলহীন অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করে প্রশাসনের দেওয়া ব্যাখ্যাকে একেবারেই অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস-চেয়ার মার্ক ওয়ার্নার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো সরাসরি হুমকি না থাকা সত্ত্বেও কেবল ইসরায়েলের ওপর হুমকির অজুহাতে যুদ্ধে জড়ানো একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে।

চলমান এই বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ছয়জন সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। তবে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হাউস স্পিকার মাইক জনসনসহ রিপাবলিকান নেতারা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করলেও, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ পাসের মাধ্যমে এই যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করছেন। তবে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে এই প্রস্তাব পাস হওয়া বা প্রেসিডেন্টের ভেটো কাটিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে, যা এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও মার্কিন সেনাদের রক্ষা: ইরানে আগাম হামলার কারণ জানালো যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ১১:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরান আক্রমণের সুনিশ্চিত পরিকল্পনা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সেনাদের ওপর সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে আগাম বা ‘প্রি-এম্পটিভ’ হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে। সম্প্রতি এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যা ওয়াশিংটনের আকস্মিক এই যুদ্ধে জড়ানোর নতুন ব্যাখ্যা হিসেবে সামনে এসেছে।

মার্কো রুবিও তার ব্যাখ্যায় আরও বলেন, যখন ইসরায়েল তাদের আত্মরক্ষায় হামলার বিষয়ে অনড় ছিল, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে ইরান যেকোনো আক্রমণকারীর পাশাপাশি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানবে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনাদের সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যেই হোয়াইট হাউস তেহরান হামলা করার আগেই তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে, এই নতুন ব্যাখ্যা প্রকাশ হওয়ার পর মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের পর কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকানরা যেখানে প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপকে ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ হিসেবে সমর্থন করছেন, সেখানে ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে প্রেসিডেন্টের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া। অন্যদিকে, সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই সংঘাতকে ‘ট্রাম্পের যুদ্ধ’ এবং ‘কৌশলহীন অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করে প্রশাসনের দেওয়া ব্যাখ্যাকে একেবারেই অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস-চেয়ার মার্ক ওয়ার্নার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো সরাসরি হুমকি না থাকা সত্ত্বেও কেবল ইসরায়েলের ওপর হুমকির অজুহাতে যুদ্ধে জড়ানো একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে।

চলমান এই বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ছয়জন সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। তবে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হাউস স্পিকার মাইক জনসনসহ রিপাবলিকান নেতারা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করলেও, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ পাসের মাধ্যমে এই যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করছেন। তবে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে এই প্রস্তাব পাস হওয়া বা প্রেসিডেন্টের ভেটো কাটিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে, যা এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।