ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

পীরগাছায় ৩ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার: বিতর্কিত অন্যদের নিয়ে কাটেনি স্থানীয়দের উদ্বেগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের পীরগাছায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপেও কাটেনি স্থানীয়দের ক্ষোভ ও উদ্বেগ। অভিযোগ রয়েছে, তালিকায় এখনো অনেক বিতর্কিত ও রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট ব্যক্তি বহাল রয়েছেন, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্নদানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক এক সভাপতি, যিনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাকেসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করলেও স্থানীয়দের দাবি, তালিকায় এখনো এমন অনেকে আছেন যাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে নন-এমপিও শিক্ষক, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মচারী এবং সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ এখনো বহাল রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য ও প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তাদের বাদ দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা ও প্রকল্প কর্মচারীদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এই তালিকা প্রণয়নে পেশাদারিত্বের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পীরগাছা উপজেলার ৯০টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য ৯০ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫৩৩ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১,০৬৬ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে উঠেছে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, যারা দায়িত্ব পালনে আগ্রহী ও যোগ্য ছিলেন, তাদের অনেককে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা বা বাদ দেওয়ার নাম করে একটি দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দায়িত্ব পরিবর্তনের বিনিময়ে ৫শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক জানান, সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন সজাগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউএনজিএ সভাপতি পদে আর্জেন্টিনার সমর্থন চাইলেন ড. খলিলুর রহমান

পীরগাছায় ৩ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার: বিতর্কিত অন্যদের নিয়ে কাটেনি স্থানীয়দের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০১:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রংপুরের পীরগাছায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপেও কাটেনি স্থানীয়দের ক্ষোভ ও উদ্বেগ। অভিযোগ রয়েছে, তালিকায় এখনো অনেক বিতর্কিত ও রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট ব্যক্তি বহাল রয়েছেন, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্নদানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক এক সভাপতি, যিনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাকেসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করলেও স্থানীয়দের দাবি, তালিকায় এখনো এমন অনেকে আছেন যাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে নন-এমপিও শিক্ষক, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মচারী এবং সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ এখনো বহাল রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য ও প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তাদের বাদ দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা ও প্রকল্প কর্মচারীদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এই তালিকা প্রণয়নে পেশাদারিত্বের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পীরগাছা উপজেলার ৯০টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য ৯০ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫৩৩ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১,০৬৬ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে উঠেছে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, যারা দায়িত্ব পালনে আগ্রহী ও যোগ্য ছিলেন, তাদের অনেককে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা বা বাদ দেওয়ার নাম করে একটি দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দায়িত্ব পরিবর্তনের বিনিময়ে ৫শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক জানান, সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন সজাগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।