পাবনার চাটমোহরে রাতের আঁধারে একটি ভোটকেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতার প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ জনমনে তীব্র গুঞ্জন ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যাহারকৃত প্রিজাইডিং অফিসার হলেন মো. রুহুল আমিন, যিনি চাটমোহর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তিনি উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের আশরাফ জিন্দামী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
জানা যায়, গত বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে নিমাইচড়া ইউনিয়নের সমাজ মিয়াপাড়ার বাসিন্দা ও পাবনা জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান (জামান) এবং বলজপুর গ্রামের মো. মোখলেছুর রহমানসহ কয়েকজন জামায়াত নেতা আশরাফ জিন্দামী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা প্রিজাইডিং অফিসার রুহুল আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নির্বাচনের এজেন্টের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাতের বেলায় ভোটকেন্দ্রে জামায়াত নেতাদের এই গোপন আনাগোনার বিষয়টি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের নজরে আসে। মুহূর্তেই ঘটনাটি উপজেলাজুড়ে চাউর হয়ে যায় এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিষয়টি দ্রুত সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরীকে অবগত করা হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পাবনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শাহেদ মোস্তফার নির্দেশে প্রিজাইডিং অফিসার মো. রুহুল আমিনকে তাঁর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে রাতের আঁধারে ভোটকেন্দ্রে জামায়াত নেতাদের এমন গোপন প্রবেশ এবং প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























