ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

সীতাকুণ্ডে ভোট ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: কেন্দ্রে কেন্দ্রে যৌথবাহিনীর টহল, সিসি ক্যামেরায় সরাসরি মনিটরিং

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনেও ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই আসনে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী। একই সাথে প্রতিটি কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা, যার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন সরাসরি নজরদারি করছে। ইতোমধ্যে কঠোর নিরাপত্তায় প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ১২৪টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছানো শুরু হয়। যৌথবাহিনীর নিশ্ছিদ্র পাহারায় ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ সকল প্রয়োজনীয় উপকরণ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্ব স্ব কেন্দ্রে উপস্থিত রয়েছেন। প্রশাসন সূত্র জানায়, ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় প্রতিটি কেন্দ্রকে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আনা হয়েছে।

নির্বাচনে যেকোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েছে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, যা সরাসরি উপজেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত ১০০ ইঞ্চি আকারের একটি বড় টিভি স্ক্রিনে মনিটর করা হচ্ছে। এই স্ক্রিনে একসঙ্গে ৬৪টি ক্যামেরার লাইভ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রের পরিস্থিতি দেখতে চাইলে সেটি আলাদাভাবে বড় করে দেখারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে ভোটগ্রহণ চলাকালে কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম নিজেই সার্বিক মনিটরিং কার্যক্রম তদারকি করছেন। তিনি জানান, “প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং ভোটগ্রহণের জন্য প্রশাসন শতভাগ প্রস্তুত। যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে যৌথবাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দুইজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক কেন্দ্র পরিদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করবেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রের সামনে ও আশপাশে যৌথবাহিনীর টহল জোরদার রয়েছে। সেনা, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে একটি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে দ্রুত ফলাফল সংগ্রহ, একত্রীকরণ এবং ঘোষণার জন্য উপজেলা অডিটোরিয়ামে একটি বিশেষ মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের জন্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসনের সকল প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত। এখন কেবল অপেক্ষা ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের, যাদের রায়েই নির্ধারিত হবে এই আসনের আগামী দিনের জনপ্রতিনিধি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউএনজিএ সভাপতি পদে আর্জেন্টিনার সমর্থন চাইলেন ড. খলিলুর রহমান

সীতাকুণ্ডে ভোট ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: কেন্দ্রে কেন্দ্রে যৌথবাহিনীর টহল, সিসি ক্যামেরায় সরাসরি মনিটরিং

আপডেট সময় : ০১:০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনেও ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই আসনে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী। একই সাথে প্রতিটি কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা, যার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন সরাসরি নজরদারি করছে। ইতোমধ্যে কঠোর নিরাপত্তায় প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ১২৪টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছানো শুরু হয়। যৌথবাহিনীর নিশ্ছিদ্র পাহারায় ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ সকল প্রয়োজনীয় উপকরণ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্ব স্ব কেন্দ্রে উপস্থিত রয়েছেন। প্রশাসন সূত্র জানায়, ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় প্রতিটি কেন্দ্রকে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আনা হয়েছে।

নির্বাচনে যেকোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েছে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, যা সরাসরি উপজেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত ১০০ ইঞ্চি আকারের একটি বড় টিভি স্ক্রিনে মনিটর করা হচ্ছে। এই স্ক্রিনে একসঙ্গে ৬৪টি ক্যামেরার লাইভ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রের পরিস্থিতি দেখতে চাইলে সেটি আলাদাভাবে বড় করে দেখারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে ভোটগ্রহণ চলাকালে কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম নিজেই সার্বিক মনিটরিং কার্যক্রম তদারকি করছেন। তিনি জানান, “প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং ভোটগ্রহণের জন্য প্রশাসন শতভাগ প্রস্তুত। যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে যৌথবাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দুইজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক কেন্দ্র পরিদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করবেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রের সামনে ও আশপাশে যৌথবাহিনীর টহল জোরদার রয়েছে। সেনা, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে একটি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে দ্রুত ফলাফল সংগ্রহ, একত্রীকরণ এবং ঘোষণার জন্য উপজেলা অডিটোরিয়ামে একটি বিশেষ মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের জন্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসনের সকল প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত। এখন কেবল অপেক্ষা ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের, যাদের রায়েই নির্ধারিত হবে এই আসনের আগামী দিনের জনপ্রতিনিধি।