ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। এই আটককে নির্বাচন বানচালের ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মো. দেলাওয়ার হোসেন। বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই পরিকল্পিতভাবে জামায়াত আমিরকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিষয়। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ভোটগ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টতই একটি বিশেষ মহলের চক্রান্ত।”
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঋণ মওকুফ ও টাকা ছড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ২২ কোটি টাকার ঋণ মওকুফের অভিযোগ রয়েছে, অনেক জায়গায় টাকা বিলানোর সময় হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনাও ঘটছে। অথচ সেসব ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করা হলেও একজন ব্যবসায়ীর বৈধ অর্থ নিয়ে ফেরার পথে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।”
আটকের স্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “ঢাকা বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হলো না, অথচ সৈয়দপুরে নামার পর তাকে আটক করা হলো। এটি একটি সাজানো নাটক ছাড়া আর কিছু নয়।”
এদিকে বেলাল উদ্দিন প্রধানের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টস ও বুটিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বকেয়া আদায় ও নতুন অর্ডারের অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করতে তিনি ঢাকা গিয়েছিলেন। ইতিপূর্বেও তিনি একইভাবে বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক লেনদেন করেছেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ব্যবসায়িক কারণে অর্থ বহন করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একটি কুচক্রী মহল সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি সায়েদ আহাম্মদ সাইফি, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক রফিকুল আলম এবং সদস্য সচিব খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জেলা জামায়াত আমিরের আটকের এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণ ও উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 























