ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ: ভোট কেন্দ্র ঘিরে ছড়ানো গুজব, প্রিজাইডিং অফিসারকে ‘জামায়াত’ আখ্যা; প্রশাসন বলছে ভিত্তিহীন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ধনকুন্ডা পপুলার হাই স্কুল ভোট কেন্দ্রকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে ‘জামায়াতের আমীর’ আখ্যা দিয়ে নাশকতার প্রস্তুতির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে ব্যালট পেপারসহ জামায়াতে ইসলামীর নারী-পুরুষসহ তিনজনকে আটক এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানের বানোয়াট খবর প্রচার করা হয়। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ঘটনাস্থলে নাসিক ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ডি এইচ বাবুল উপস্থিত ছিলেন। এসব অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তারা দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।

ধনকুন্ডা পপুলার হাই স্কুল কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বশির উল্লাহ মূলত সানারপাড় রওশন আরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে ধনকুন্ডা পপুলার হাই স্কুলের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহীনা ইসলাম চৌধুরী জানান, “যাদের নিয়ে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তারা মূলত পোলিং এজেন্টের নিয়োগপত্র সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে কাজ করছিলেন। এখানে কোনো বহিরাগত বা বাইরের কেউ ছিল না এবং কোনো ধরনের দলীয় আলোচনা বা রাজনৈতিক তৎপরতার ঘটনা ঘটেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করেছি। অভিযুক্ত প্রিজাইডিং অফিসারের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। বশির উল্লাহ একজন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এবং নির্বাচন কমিশনের বিধি ও নিয়ম অনুযায়ীই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি।”

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহীনা ইসলাম চৌধুরী ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচনের আগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যালট পেপারের সংখ্যা ও ভোটারের সংখ্যার মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, “এটি একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোট গ্রহণের আগে এ ধরনের যাচাই করা হয়ে থাকে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই সময় কিছু বহিরাগত লোক এসে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়াতে শুরু করে। তবে তাদের দাবির পক্ষে কোনো ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। নির্বাচন কর্মকর্তারা এই ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে রিকশাচালক আহত, তদন্তে পুলিশ

নারায়ণগঞ্জ: ভোট কেন্দ্র ঘিরে ছড়ানো গুজব, প্রিজাইডিং অফিসারকে ‘জামায়াত’ আখ্যা; প্রশাসন বলছে ভিত্তিহীন

আপডেট সময় : ১০:০০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ধনকুন্ডা পপুলার হাই স্কুল ভোট কেন্দ্রকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে ‘জামায়াতের আমীর’ আখ্যা দিয়ে নাশকতার প্রস্তুতির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে ব্যালট পেপারসহ জামায়াতে ইসলামীর নারী-পুরুষসহ তিনজনকে আটক এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানের বানোয়াট খবর প্রচার করা হয়। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ঘটনাস্থলে নাসিক ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ডি এইচ বাবুল উপস্থিত ছিলেন। এসব অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তারা দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।

ধনকুন্ডা পপুলার হাই স্কুল কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বশির উল্লাহ মূলত সানারপাড় রওশন আরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে ধনকুন্ডা পপুলার হাই স্কুলের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহীনা ইসলাম চৌধুরী জানান, “যাদের নিয়ে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তারা মূলত পোলিং এজেন্টের নিয়োগপত্র সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে কাজ করছিলেন। এখানে কোনো বহিরাগত বা বাইরের কেউ ছিল না এবং কোনো ধরনের দলীয় আলোচনা বা রাজনৈতিক তৎপরতার ঘটনা ঘটেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করেছি। অভিযুক্ত প্রিজাইডিং অফিসারের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। বশির উল্লাহ একজন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এবং নির্বাচন কমিশনের বিধি ও নিয়ম অনুযায়ীই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি।”

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহীনা ইসলাম চৌধুরী ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচনের আগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যালট পেপারের সংখ্যা ও ভোটারের সংখ্যার মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, “এটি একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোট গ্রহণের আগে এ ধরনের যাচাই করা হয়ে থাকে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই সময় কিছু বহিরাগত লোক এসে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়াতে শুরু করে। তবে তাদের দাবির পক্ষে কোনো ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। নির্বাচন কর্মকর্তারা এই ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।