ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুর-২: ১১ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ শামা ওবায়েদের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) নির্বাচনী এলাকায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরকান্দার লস্করদিয়া গ্রামে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শামা ওবায়েদ দাবি করেন, নির্বাচনী এলাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কিছু অসাধু তৎপরতা নির্বাচনকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরকান্দার চরযোশর্দী ইউনিয়নের আলগাদিয়া এবং সালথার রামকান্তুপুর ও বাহিরদিয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থীর লোকজন ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালায়। স্থানীয় কর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে তারা পালিয়ে যায়।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, “রাতের অন্ধকারে ভোট কেনার এই চেষ্টা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করছি।” একই সঙ্গে বুধবার রাতেও বিভিন্ন এলাকায় টাকা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সংবাদকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

বিএনপি প্রার্থীর আরও অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। ধানের শীষের শক্ত অবস্থান রয়েছে এমন এলাকাগুলোতে নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, যার জন্য দীর্ঘ ১৮ বছর লড়াই করেছি। ডক্টর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে যেন মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী। তিনি বলেন, “টাকা ছড়ানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমি নিজেই সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় নির্বাচন করছি। আমাদের কর্মীরা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার কোনো প্রশ্নই আসে না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে টাকা ছড়ানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে রিকশাচালক আহত, তদন্তে পুলিশ

ফরিদপুর-২: ১১ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ শামা ওবায়েদের

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) নির্বাচনী এলাকায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরকান্দার লস্করদিয়া গ্রামে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শামা ওবায়েদ দাবি করেন, নির্বাচনী এলাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কিছু অসাধু তৎপরতা নির্বাচনকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরকান্দার চরযোশর্দী ইউনিয়নের আলগাদিয়া এবং সালথার রামকান্তুপুর ও বাহিরদিয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থীর লোকজন ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালায়। স্থানীয় কর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে তারা পালিয়ে যায়।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, “রাতের অন্ধকারে ভোট কেনার এই চেষ্টা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করছি।” একই সঙ্গে বুধবার রাতেও বিভিন্ন এলাকায় টাকা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সংবাদকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

বিএনপি প্রার্থীর আরও অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। ধানের শীষের শক্ত অবস্থান রয়েছে এমন এলাকাগুলোতে নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, যার জন্য দীর্ঘ ১৮ বছর লড়াই করেছি। ডক্টর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে যেন মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী। তিনি বলেন, “টাকা ছড়ানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমি নিজেই সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় নির্বাচন করছি। আমাদের কর্মীরা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার কোনো প্রশ্নই আসে না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে টাকা ছড়ানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।