আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী পরিবেশ ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের মোট ৮৩৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০টি কেন্দ্রকে রাখা হয়েছে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ তালিকায়। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ নিশ্চিতে এসব কেন্দ্রে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বরিশাল জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬টি আসনে মোট ৮৩৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সাধারণ কেন্দ্র ৩৪২টি। বাকি ৪৯১টি কেন্দ্রই কোনো না কোনোভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ১৯৭টি কেন্দ্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ২৫৪টি কেন্দ্র ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত।
আসনভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল-১ আসনে ১২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৬টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। বরিশাল-২ আসনে ১৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৪টি এবং বরিশাল-৩ আসনে ১২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৯টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল-৪ আসনে ১৪৯টির মধ্যে ৫১টি, বরিশাল-৫ আসনে ১৭৬টির মধ্যে ৮৩টি এবং বরিশাল-৬ আসনে ১১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, নদীবেষ্টিত ও দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। নৌ-পুলিশ ও কোস্ট-গার্ড এসব এলাকায় টহল জোরদার করেছে। তিনি আরও জানান, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পাঁচজন এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ছয়জন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। পুরো জেলায় ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৯৯টি মোবাইল টিম ও ১২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে।
ভোটের মাঠে শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী ও বিজিবির উপস্থিতি থাকবে চোখে পড়ার মতো। প্রতি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য জেলার বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। বরিশালের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এম খায়ের উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছি। ভোটারদের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচনী কাজে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন প্রস্তুতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “বরিশালের ৬টি আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। প্রশাসন সর্বত্র সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ভোটাররা কোনো প্রকার শঙ্কা ছাড়াই কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।”
রিপোর্টারের নাম 























