গোপালগঞ্জ পৌরসভা ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার তিনটি ভোটকেন্দ্রে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিকট শব্দে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার পর পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে, জেলায় গত কয়েক মাসে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনার সুরাহা করতে পারেনি পুলিশ।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার রঘুনাথপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের ওপর একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। প্রায় একই সময়ে নিলারমাঠ শহীদ মাহবুব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গুয়াদানা বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরপর তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভোটকেন্দ্র ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সরোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে গোপালগঞ্জ জেলায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর আগে, গত ৩০ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রাম এলাকায় আনসার ব্যাটালিয়ন অফিস কম্পাউন্ডে, ২৮ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকের বাসভবনে, ২৬ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটের সামনে এবং গত বছরের ১২ ডিসেম্বর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জেলায় একের পর এক এমন ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার কোনো কুল কিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রিপোর্টারের নাম 






















