ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচনী সহিংসতা: ধানের শীষের হিন্দু সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রাশেদ খানের ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী (কাপ-পিরিচ প্রতীক) সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকদের দায়ী করেছেন রাশেদ খান। তিনি অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা এক লিখিত অভিযোগে রাশেদ খান উল্লেখ করেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে তার নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষের সমর্থক এবং হিন্দু ভোটারদের ওপর হামলা, শারীরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বাড়িছাড়া করার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের হরদেবপুর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের ওপর হামলা ও হুমকি প্রদান করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, যা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশকে ব্যাহত করছে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার শিকার হিসেবে হরদেবপুর গ্রামের সন্তু দাসের স্ত্রী নীলি দাশ এবং অশোক দাসের স্ত্রী ঝুমা দাশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশেদ খান তার আবেদনে অবিলম্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য একটি কুচক্রী মহল এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজোয়ানা নাহিদ জানান, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন এবং ঘটনাস্থলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচনী সহিংসতা: ধানের শীষের হিন্দু সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৮:১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রাশেদ খানের ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী (কাপ-পিরিচ প্রতীক) সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকদের দায়ী করেছেন রাশেদ খান। তিনি অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা এক লিখিত অভিযোগে রাশেদ খান উল্লেখ করেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে তার নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষের সমর্থক এবং হিন্দু ভোটারদের ওপর হামলা, শারীরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বাড়িছাড়া করার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের হরদেবপুর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের ওপর হামলা ও হুমকি প্রদান করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, যা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশকে ব্যাহত করছে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার শিকার হিসেবে হরদেবপুর গ্রামের সন্তু দাসের স্ত্রী নীলি দাশ এবং অশোক দাসের স্ত্রী ঝুমা দাশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশেদ খান তার আবেদনে অবিলম্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য একটি কুচক্রী মহল এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজোয়ানা নাহিদ জানান, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন এবং ঘটনাস্থলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।