ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

কুতুবদিয়ায় অর্ধেক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ভোট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনের কুতুবদিয়া উপজেলায় জোরদার করা হয়েছে নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মোট ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ১৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা পরিকল্পনা। এবারই প্রথম কুতুবদিয়ার সবকটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে এবং ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’, ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে লেমশীখালী ইউনিয়নে ৫টি কেন্দ্রকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা এককভাবে সর্বোচ্চ। এছাড়া, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে ৪টি, আলী আকবর ডেইলে ৪টি, বড়ঘোপে ৩টি এবং কৈয়ারবিলে ২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের কোনো কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কুতুবদিয়ায় এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সাথে, প্রথমবারের মতো কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে ৩টি ড্রোন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই ড্রোনগুলো প্রতিটি কেন্দ্রকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে এর নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

জামায়াতের প্রার্থী এএইচ এম হা‌মিদুর রহমান আযা‌দের মিডিয়া উইং এর আহ্বায়ক আকবর খান ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের বিশেষ নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদ আলম রানা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ক্যামেরার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১১টি দল, কোস্টগার্ডের ৮টি স্ট্রাইকিং ফোর্স দল, পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কুতুবদিয়ায় একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো আসেনি, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে’: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল

কুতুবদিয়ায় অর্ধেক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ভোট

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনের কুতুবদিয়া উপজেলায় জোরদার করা হয়েছে নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মোট ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ১৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা পরিকল্পনা। এবারই প্রথম কুতুবদিয়ার সবকটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে এবং ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’, ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে লেমশীখালী ইউনিয়নে ৫টি কেন্দ্রকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা এককভাবে সর্বোচ্চ। এছাড়া, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে ৪টি, আলী আকবর ডেইলে ৪টি, বড়ঘোপে ৩টি এবং কৈয়ারবিলে ২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের কোনো কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কুতুবদিয়ায় এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সাথে, প্রথমবারের মতো কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে ৩টি ড্রোন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই ড্রোনগুলো প্রতিটি কেন্দ্রকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে এর নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

জামায়াতের প্রার্থী এএইচ এম হা‌মিদুর রহমান আযা‌দের মিডিয়া উইং এর আহ্বায়ক আকবর খান ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের বিশেষ নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদ আলম রানা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ক্যামেরার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১১টি দল, কোস্টগার্ডের ৮টি স্ট্রাইকিং ফোর্স দল, পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কুতুবদিয়ায় একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।