ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

খুলশীতে হিন্দুদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকির ভিডিও ভাইরাল: পুলিশ-স্থানীয়রা অভিযোগের সত্যতা পাননি, বলছেন ‘ভুয়া’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের খুলশী থানার আমবাগান হিন্দুপাড়ায় আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি তুলে একটি ভিডিও বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং স্থানীয়রা এই ভিডিওকে ‘সাজানো’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করছেন।

বুধবার দুপুরে আমবাগান হিন্দুপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয়। তাদের মধ্যে চম্পা রানি দাস বলেন, “এখানে কোনো ধরনের ঝামেলা হয়নি, কেউ এসে হুমকি-ধমকি দেয়নি। ভোট দেওয়া আমাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। কোন দলকে ভোট দেব, তা নিয়ে কেউ ভয় দেখাবে, এমন প্রশ্নই ওঠে না।” আরেক বাসিন্দা গীতা রানী শীল (৩৬) বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “ফেসবুকে যা দেখলাম, তাতে আমি অবাক হয়েছি। আমাদের পাড়ায় তো এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। মনে হচ্ছে, কারা যেন পরিকল্পিতভাবে এই ভিডিওটি বানিয়েছে।” পাড়ার বয়োজ্যেষ্ঠ দিলিপ কান্তি শীলের ভাষ্য, “নির্বাচন এলেই নানা রকম খেলা হয়। কিন্তু আমাদের এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।” একাধিক ব্যক্তি একই ধরনের মন্তব্য করে জানান যে, জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী কর্তৃক হিন্দুদের ভয় দেখানোর কোনো অভিজ্ঞতা তাদের নেই।

এ বিষয়ে খুলশী জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আমিনুল ইসলাম জানান, “আমরা কয়েকবার ওই এলাকায় টহল দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এলাকার পরিস্থিতিও সম্পূর্ণ শান্ত। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানো হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম–১০ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী এই ভিডিওটিকে ‘সাজানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের আমরা সবসময় স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার জন্য আশ্বস্ত করছি। সেখানে হুমকির কোনো প্রশ্নই আসে না। বিএনপি আমাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ তৈরি করতে এমন ভুয়া ভিডিও ছড়াচ্ছে।”

ঘটনার পর থেকে ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয় যুবক অরূপ দাস মন্তব্য করেন, “ক্যামেরা নিয়ে এসে দু-একজনকে দাঁড় করালে তারা হয়তো কিছু বলে দিতে পারে। কিন্তু কোনো ভিডিও ভাইরাল হলেই তো সেটা সত্য হয়ে যায় না।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

খুলশীতে হিন্দুদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকির ভিডিও ভাইরাল: পুলিশ-স্থানীয়রা অভিযোগের সত্যতা পাননি, বলছেন ‘ভুয়া’

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের খুলশী থানার আমবাগান হিন্দুপাড়ায় আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি তুলে একটি ভিডিও বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং স্থানীয়রা এই ভিডিওকে ‘সাজানো’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করছেন।

বুধবার দুপুরে আমবাগান হিন্দুপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয়। তাদের মধ্যে চম্পা রানি দাস বলেন, “এখানে কোনো ধরনের ঝামেলা হয়নি, কেউ এসে হুমকি-ধমকি দেয়নি। ভোট দেওয়া আমাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। কোন দলকে ভোট দেব, তা নিয়ে কেউ ভয় দেখাবে, এমন প্রশ্নই ওঠে না।” আরেক বাসিন্দা গীতা রানী শীল (৩৬) বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “ফেসবুকে যা দেখলাম, তাতে আমি অবাক হয়েছি। আমাদের পাড়ায় তো এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। মনে হচ্ছে, কারা যেন পরিকল্পিতভাবে এই ভিডিওটি বানিয়েছে।” পাড়ার বয়োজ্যেষ্ঠ দিলিপ কান্তি শীলের ভাষ্য, “নির্বাচন এলেই নানা রকম খেলা হয়। কিন্তু আমাদের এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।” একাধিক ব্যক্তি একই ধরনের মন্তব্য করে জানান যে, জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী কর্তৃক হিন্দুদের ভয় দেখানোর কোনো অভিজ্ঞতা তাদের নেই।

এ বিষয়ে খুলশী জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আমিনুল ইসলাম জানান, “আমরা কয়েকবার ওই এলাকায় টহল দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এলাকার পরিস্থিতিও সম্পূর্ণ শান্ত। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানো হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম–১০ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী এই ভিডিওটিকে ‘সাজানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের আমরা সবসময় স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার জন্য আশ্বস্ত করছি। সেখানে হুমকির কোনো প্রশ্নই আসে না। বিএনপি আমাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ তৈরি করতে এমন ভুয়া ভিডিও ছড়াচ্ছে।”

ঘটনার পর থেকে ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয় যুবক অরূপ দাস মন্তব্য করেন, “ক্যামেরা নিয়ে এসে দু-একজনকে দাঁড় করালে তারা হয়তো কিছু বলে দিতে পারে। কিন্তু কোনো ভিডিও ভাইরাল হলেই তো সেটা সত্য হয়ে যায় না।”