সিলেট-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্রে বোরকা পরা নারীদের অবমাননা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনেছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার বিকেলে সিলেট মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আরিফুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যেখানে তিনি জাল ভোট প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জামায়াত নেতারা দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারে আরিফুল হক চৌধুরী বোরকা পরা নারীদের নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্যমতে, বোরকা পরে কোনো নারী ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না, গেলেও বোরকা খুলে ভোট দিতে হবে। জামায়াত এই বক্তব্যকে ইসলাম ধর্ম ও পর্দাশীল নারীদের প্রতি চরম অবমাননাকর বলে অভিহিত করেছে।
একইসাথে, জামায়াতের প্রতিনিধি দলটি সাংবাদিকদের পরিচয়পত্রের অপব্যবহার নিয়েও অভিযোগ উত্থাপন করে। তাদের ভাষ্যমতে, যুবলীগ ও বিএনপির কতিপয় নেতা অবৈধভাবে সাংবাদিকতার পাস কার্ড সংগ্রহ করেছেন, যার উদ্দেশ্য ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে দুজনের কার্ড বাতিল করা হয়েছে। জামায়াত নেতারা কেবল নিবন্ধিত ও প্রকৃত সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবি জানান।
এছাড়াও, সিলেট-১ আসনে তাদের এজেন্ট ও কর্মীরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের পক্ষ থেকে হুমকির মুখে পড়ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি, কিছু এলাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নির্বাচনী প্রচারে নামানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
এদিকে, বোরকা সংক্রান্ত মন্তব্য প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বোরকা পরে কেন্দ্রে আসুন, তবে ভেতরে যেন বোরকা খুলে ভোট প্রদান করেন।”
নিজের বক্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করে আরিফুল হক জানান, ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ চাউর হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিলেট-৪ আসনটি একটি সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা। ইতোমধ্যে পুলিশের ভুয়া পোশাক তৈরির অভিযোগও এসেছে। যাতায়াত ব্যবস্থার অভাব থাকা অনেক কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এসব কারণে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকায় অধিক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন।
রিপোর্টারের নাম 






















